০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-চীনকে নজরে রাখতে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারত

বাংলাদেশ এবং চীনকে নজরদারির মধ্যে রাখতে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারতের নৌবাহিনী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বন্দরশহর হলদিয়ায় তৈরি করা হবে এই ঘাঁটি।

ভারতের নৌবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টু-ডেকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি বঙ্গপোসাগরের উত্তরদিকে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়ছে; আবার একই সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে কাছাকাছি আসছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার পাকিস্তান সফরও করেছেন। এসব ব্যাপার বিবেচনাধীনে রেখেই নতুন এই নৌঁঘাটি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব হবে ১০০ কিলোমিটার। হলদিয়ায় নৌঘাঁটি স্থাপন করা হলে হুগলি নদী থেকে অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গপোসাগরে পৌঁছানো সম্ভব হবে ভারতীয় নৌ সেনাদের।

নৌঘাঁটি তৈরির ক্ষেত্রে হলদিয়ারি ডক কমপ্লেক্সকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে অপারেশনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে নৌবাহিনীর, অন্যদিকে অতিরিক্ত অবকাঠামোও তৈরির প্রয়োজনও পড়বে অনেক কম।

ভারতীয় নৌবাহিনীসূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে বেশ কয়েকটি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস (এফআইসি) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস (এনডব্লিউজেএফএসি)-এর মতো দ্রুতগামী সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ। এসব সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজগুলোর গতি ৪০ থেকে ৪৫ নট, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৭৪ দশমিক ০৮ থেকে ৮৩ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার।

ভারতীয় নৌবাহিনীর এফাআইসি এবং এনডব্লিউজেএফএসি সিরিজের যুদ্ধজাহাজগুলো বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সামরিক নৌযান। এই নৌযানগুলোকে সমৃদ্ধ করা হবে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুইসাইডাল ড্রোন নাগাস্ত্র সিস্টেমসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে।

প্রস্তাবিত নতুন এই ঘাঁটিতে ১০০ জন সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক সার্বক্ষণিকভাবে থাকবেন বলে জানা গেছে।

মূলত বঙ্গপোসাগর ও ভারত মহাসগারে চীনের উপস্থিতি বৃদ্ধি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন চুক্তি এবং চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশেল ঘণ ঘন যোগাযোগের কারণেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই নৌঘাঁটি তৈরি করছে ভারত।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে এনসিপি আহ্বায়কের বৈঠক: আসন্ন নির্বাচনের কৌশল আলোচনা

বাংলাদেশ-চীনকে নজরে রাখতে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারত

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ এবং চীনকে নজরদারির মধ্যে রাখতে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারতের নৌবাহিনী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বন্দরশহর হলদিয়ায় তৈরি করা হবে এই ঘাঁটি।

ভারতের নৌবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টু-ডেকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি বঙ্গপোসাগরের উত্তরদিকে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়ছে; আবার একই সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে কাছাকাছি আসছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার পাকিস্তান সফরও করেছেন। এসব ব্যাপার বিবেচনাধীনে রেখেই নতুন এই নৌঁঘাটি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব হবে ১০০ কিলোমিটার। হলদিয়ায় নৌঘাঁটি স্থাপন করা হলে হুগলি নদী থেকে অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গপোসাগরে পৌঁছানো সম্ভব হবে ভারতীয় নৌ সেনাদের।

নৌঘাঁটি তৈরির ক্ষেত্রে হলদিয়ারি ডক কমপ্লেক্সকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে অপারেশনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে নৌবাহিনীর, অন্যদিকে অতিরিক্ত অবকাঠামোও তৈরির প্রয়োজনও পড়বে অনেক কম।

ভারতীয় নৌবাহিনীসূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে বেশ কয়েকটি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস (এফআইসি) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস (এনডব্লিউজেএফএসি)-এর মতো দ্রুতগামী সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ। এসব সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজগুলোর গতি ৪০ থেকে ৪৫ নট, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৭৪ দশমিক ০৮ থেকে ৮৩ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার।

ভারতীয় নৌবাহিনীর এফাআইসি এবং এনডব্লিউজেএফএসি সিরিজের যুদ্ধজাহাজগুলো বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সামরিক নৌযান। এই নৌযানগুলোকে সমৃদ্ধ করা হবে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুইসাইডাল ড্রোন নাগাস্ত্র সিস্টেমসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে।

প্রস্তাবিত নতুন এই ঘাঁটিতে ১০০ জন সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক সার্বক্ষণিকভাবে থাকবেন বলে জানা গেছে।

মূলত বঙ্গপোসাগর ও ভারত মহাসগারে চীনের উপস্থিতি বৃদ্ধি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন চুক্তি এবং চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশেল ঘণ ঘন যোগাযোগের কারণেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই নৌঘাঁটি তৈরি করছে ভারত।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে