পাকুয়াখালী গণহত্যার বিচারের দাবিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসন ও প্রতি পরিবার থেকে একজনকে সরকারি চাকরি প্রদানের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যােগে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার লংগদু ঘাট থেকে র্যালী বের করে গণকবরের সামনে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে শোক সভা, দোয়া ও কবর জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম’র স্বাগত বক্তব্যে ও লংগদু উপজেলা পিসিসিপি সভাপতি সুমন তালুকদারের সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আসিফ ইকবাল’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি গিয়াস উদ্দীন, পিসিসিপি লংগদু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ রেজা। এছাড়াও পিসিসিপি’র জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন শাখার নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
শোক সভায় পিসিসিপি’র নেতৃবৃন্দরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালী গণহত্যার নির্মম এক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও বেঁচে আছেন একজন ইউনুস মিয়া। ৩৫ কাঠুরিয়াকে পাহাড়ী সশস্ত্র শান্তিবাহিনী নৃশংস নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করে। মোট ৩৬ পরিবারের মধ্যে ৩৫ জন নিরস্ত্র বাঙালি কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে টুকরো টুকরো করেছিলো সেদিন। একমাত্র বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া তিনি কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার বেঁচে ফেরার মাধ্যমে এই নির্মম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছিলো।
ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজও জনসম্মুখে আসেনি। বেঁচে থাকা ইউনুস মিয়াও একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি নিজে সেই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী ছিলেন। স্বাক্ষী থাকা সত্ত্বেও গত ২৯ বছরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। বেঁচে ফেরা ইউনুস মিয়াও বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। যে ৩৫ জন কাঠুরিয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তাদের পরিবার কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি পড়ছে ২৯ বছর ধরে। কারণ দেশের আইন-আদালত কোনো বিচার এনে দিতে পারেনি। তার পরও মাঝেমধ্যে একজন ইউনুস মিয়া স্বপ্ন বাঁধেন যে, কোনো একদিন জঘন্য একটি হত্যাকান্ডের বিচার করবে সরকার।
এমআর/সবা






















