উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ডাকাতি মামলায় তিনজন ব্যক্তিকে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম। তিনি রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন তেরখাদিয়া পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় নগরীর অলকার মোড়ে অবস্থিত সাংবাদিক ইউনিয়ন অফিসে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, রাজপাড়া থানাধীন নতুন বিলশিমলা বন্ধগেট এলাকায় আজগর আলীর মোটরসাইকেল গ্যারেজ সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় গত ৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১০ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের দাবি করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোঃ বাধন চান সওদাগর (৩৫), মোঃ বিদ্যুৎ হোসেন (৩৭) ও মোঃ সাজ্জাদ হোসেন মুরাদ (২৮)। তিনজনই রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন নতুন বিলশিমলা এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, প্রকৃতপক্ষে ওই তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে নয়, নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একটি সাজানো নাটকের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দেওয়া হয়। এ সময় তাদের বাসা থেকে তুলে নেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারের আগে কোনো ধরনের সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধন সওদাগর ও সাজ্জাদ মুরাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। এ সময় তাদের মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। তল্লাশিতে কেবল কোরবানি কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি চাকু ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। একই ধরনের ঘটনা বিদ্যুৎ হোসেনের বাড়িতেও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলা দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয় বলে দাবি করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়—
১) অবিলম্বে মিথ্যা ও বানোয়াট ডাকাতি মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
২) অভিযুক্তদের দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৩) হয়রানি ও সাজানো মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে।
৪) অভিযুক্তদের এবং তাদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তারা আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, বরং ন্যায়সঙ্গত ও সম্মানজনক সমাধান চান। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।























