প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে মোট ৯ শিক্ষার্থী। প্রায় ২দিন পার হলেও এখনও কোন সুষ্ঠু সমাধান আসেনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমনটা দাবি করছেন অবশনরত শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে এ কর্মসূচি করছে তারা। যা এখনও চলমান। ইতোমধ্যে অনশন রত ৭জন শিক্ষার্থী খুব অসুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে ভর্তি আছেন। যাদেরকে স্যালাইন লাগানো হয়েছে।
এর আগে, আহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা প্রদান, নিরাপত্তাহীন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য অবিলম্বে মানসম্মত ভ্রাম্যমাণ আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং আবাসনচ্যুত শিক্ষার্থীদের মালামাল উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ঘিরে বিশেষভাবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীদের সকলপ্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিরাপরাধ এলাকাবাসীদের হয়রানি বন্ধ করা, বৈপরীত্যমূলক দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে উভয়পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন করা এবং ন্যূনতম তিন মাস পরপর মিটিং করা ও সিন্ডিকেটকর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের রোডম্যাপ প্রকাশ ও বাকরায়ন করা সহ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনার দায় নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করার ৭ দফা দাবি জানায় তারা।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন,বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, মিউজিক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঈশা দে, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রামা সাইন মারমা, ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষার্থীরা আহমেদ মুগ্ধ ও নাঈম শাহজান, মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার, মিউজিক বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষার্থী জশদ জাকির, বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষার্থী সুদর্শন চাকমা এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষার্থী ধ্রুব বড়ুয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাইম শাহ জাহান বলেন,” আমরা প্রশাসনকে সাত দফা দাবি দিয়েছিলাম। এ নিয়ে তাদের সাথে আমরা কথা বলতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ভাবে বোঝানো হয়। মুলত দাবির কিছুই পুরন হয়নি। দাবি আদায়ে আমরা আমরণ অনশনে বসেছি। প্রায় পক্ষ থেকে আমার সাথে প্রায় ৩০ ঘন্টাপর দেখা করতে আসছে। প্রশাসন যে প্রস্তাবনা দিয়েছি আমাদের মনপুত না হওয়ায় আমরা আমাদের অনশন চালিয়ে যাচ্ছি।
আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা আমাদের দাবিতে অটল।”
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের অনশনের কথা শুনেই গতকাল আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জি এস হাবিবকে দায়িত্ব দিয়েছি অনশনরত শিক্ষার্থীরা যেন এসে আমার কার্যালয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে। আমি রাত আটটা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও কোন শিক্ষার্থী আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। অবশেষে আমি বাসায় ফিরে যাই আজকে যখন ক্যাম্পাসে আসি বিভিন্ন কাজ থাকার কারণে ওদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। আমি যখন শুনেছি শিক্ষার্থীরা এখনো অনশনে তখনই আমি, উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন, ছাত্র উপদেষ্টা আনোয়ার সাইদসহ প্রায় পাঁচ ছয়জন শিক্ষক আসছি ওদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করার পরেও তাদের অনশন ভাঙাতে পারেনি। বারবার বলেছি আমরা আগামী রবিবার বিকাল তিনটায় তোমাদের সাথে বসে তোমাদের সকল দাবী দাওয়া শুনবো। কিন্তু তারা তাদের কথার উপর অটল আছে। তারা বারবার বলছে প্রক্টরের পদত্যাগ এবং দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু একটা নিয়ম আছে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তও করেছি। তাহলে আমরা আবার কীভাবে ওদের দাবি অনুযায়ী কাজ করবো? আমাদের তদন্তের রিপোর্টে যদি প্রক্টর দোষী হয় তাহলে অবশ্যই তাকে অপসারণ করা হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেটা মানতেছেনা।
তবে অনশন রত শিক্ষার্থীরা বলছেন আমরা মারা গেলেও অনশন ভাঙ্গবোনা। যতক্ষণ না প্রশাসন আমাদের দাবি না মানে।
চবি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আবুল কাশেম জানান, অনশনরত শিক্ষার্থীরা যদি এখন অনশন না ভাঙ্গে, তাহলে শিক্ষার্থীদের প্রাণ নাশের মত ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষার্থীদের অবস্থা ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। একটা পর্যায়ে চবি মেডিকেলে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার মত অবস্থা থাকবেনা।
























