1:32 pm, Thursday, 18 June 2026

চাকসু নির্বাচন : ভিপি-জিএস পদে এগিয়ে ছাত্রশিবির, এজিএসে ছাত্রদল

দীর্ঘ ৩৫ বছর অনুষ্ঠিত হলো চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে এগিয়ে রয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত শিক্ষার্থী সম্প্রীতি জোট। অপরদিকে, এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে এগিয়ে আছে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থী সম্প্রীতি জোট প্যানেল।

 

গেল বুধবার বিকেল পর্যন্ত ঘোষিত ১৪টি হল সংসদের ফলাফলে দেখা গেছে, সম্প্রীতি জোটের ভিপি পদপ্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং জিএস পদপ্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এগিয়ে রয়েছেন।

 

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আয়োজিত এই চাকসু নির্বাচন ঘিরে সারাদিনই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও আবাসিক হলজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা।

সারাদিন জুড়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী কর্মীদের প্রচারণা, ভোটারদের আনাগোনা ও উৎসবের আমেজে মুখর ছিল গোটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হয় এবং একে একে ১৪টি হল সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

 

তবে এখনো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। যার ফলে চূড়ান্ত ফলাফল এখনো নির্ধারিত হয়নি। ঘোষিত হল সংসদের ফলাফলের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সম্প্রীতি জোটের প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকতে পারেন।

চবি প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

 

চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নিচ্ছে, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে।”

 

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা বহু প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। বিভিন্ন হলে এখনো শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাতের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ফলাফলসহ সব কেন্দ্রের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

sixteen − thirteen =

About Author Information

Tipu Sultan

মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাকসু নির্বাচন : ভিপি-জিএস পদে এগিয়ে ছাত্রশিবির, এজিএসে ছাত্রদল

Update Time : ০৩:৪৩:০৯ am, Thursday, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ ৩৫ বছর অনুষ্ঠিত হলো চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে এগিয়ে রয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত শিক্ষার্থী সম্প্রীতি জোট। অপরদিকে, এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে এগিয়ে আছে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থী সম্প্রীতি জোট প্যানেল।

 

গেল বুধবার বিকেল পর্যন্ত ঘোষিত ১৪টি হল সংসদের ফলাফলে দেখা গেছে, সম্প্রীতি জোটের ভিপি পদপ্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং জিএস পদপ্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এগিয়ে রয়েছেন।

 

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আয়োজিত এই চাকসু নির্বাচন ঘিরে সারাদিনই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও আবাসিক হলজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা।

সারাদিন জুড়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী কর্মীদের প্রচারণা, ভোটারদের আনাগোনা ও উৎসবের আমেজে মুখর ছিল গোটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হয় এবং একে একে ১৪টি হল সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

 

তবে এখনো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। যার ফলে চূড়ান্ত ফলাফল এখনো নির্ধারিত হয়নি। ঘোষিত হল সংসদের ফলাফলের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সম্প্রীতি জোটের প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকতে পারেন।

চবি প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

 

চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নিচ্ছে, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে।”

 

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা বহু প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। বিভিন্ন হলে এখনো শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাতের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ফলাফলসহ সব কেন্দ্রের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।