7:51 pm, Wednesday, 17 June 2026

জনগণের বাজেটকে গণবিরোধী বলা মানে জনগণের বিরোধিতা: প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বি: বিএনপি মিডিয়া সেল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে বাজেটে জনগণের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমানো হয় এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়, সেই বাজেটকে গণবিরোধী বলা জনগণের স্বার্থের বিরোধিতা করার শামিল। তিনি বলেন, “যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে—তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে, চাল, ডাল, তেল, নুন ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কর কমিয়েছে, যাতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় না বাড়ে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড এবং আরও ৪০ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

চা-শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চা-শ্রমিকদের আবাসনের জন্য অনুদানও দেওয়া হয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার জন্যও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি সমজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিদেশে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।”

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ফ্যামিলি কার্ড, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা অনুদান ও আবাসন সহায়তার চেক উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

twelve + 4 =

About Author Information

সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না: এবি পার্টি

জনগণের বাজেটকে গণবিরোধী বলা মানে জনগণের বিরোধিতা: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৬:১৯:৩১ pm, Wednesday, ১৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে বাজেটে জনগণের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমানো হয় এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়, সেই বাজেটকে গণবিরোধী বলা জনগণের স্বার্থের বিরোধিতা করার শামিল। তিনি বলেন, “যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে—তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে, চাল, ডাল, তেল, নুন ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কর কমিয়েছে, যাতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় না বাড়ে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড এবং আরও ৪০ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

চা-শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চা-শ্রমিকদের আবাসনের জন্য অনুদানও দেওয়া হয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার জন্যও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি সমজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিদেশে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।”

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ফ্যামিলি কার্ড, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা অনুদান ও আবাসন সহায়তার চেক উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন।

শু/সবা