যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্বাক্ষরের আগেই হরমুজ প্রণালিতে আবারও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার অগ্রগতির মধ্যেই কয়েকটি ট্যাঙ্কার অবরোধ অতিক্রম করে গন্তব্যে রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে ইরান। ডিজিটাল ট্র্যাকিং তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় তেলবাহী জাহাজ কোম্পানির ‘ডিওনা’ ও ‘হিরো-২’ নামের দুটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ট্যাঙ্কার দুটিতে প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। এছাড়া ‘সোনিয়া-১’ নামের আরেকটি ট্যাঙ্কার প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। একই সময়ে ‘স্ট্রিম’ নামের একটি জাহাজ ইরানের বন্দরের দিকে যাত্রা করেছে।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামও কমতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর ইরানকে তেল ও জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সূত্রের দাবি, সমঝোতা চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হবে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























