০২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের নতুন ইউনিফর্মের চূড়ান্ত অনুমোদন

পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের নতুন ইউনিফর্মের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এখন অর্থ বিভাগ থেকে বাজেট পাওয়ার পরই নতুন পোশাক কেনা হবে। এছাড়া আগের চেয়ে পোশাকের সংখ্যা বাড়ানো হবে পুলিশের।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের নতুন পোশাক দিতে চায়। এজন্য অর্থ বিভাগ থেকে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ নিয়ে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে নতুন পোশাক কেনার কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। আগে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বছরে পোশাক দেওয়া হতো চারটি। এখন থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বছরে পোশাক দেওয়া হবে পাঁচটি।

জানা যায়, তিন বাহিনীর সদস্যদের নতুন পোশাকের জন্য ব্যয় হবে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ সদস্যের নিজেদের কার্যকলাপ যদি পরিবর্তন না করা যায় তবে পোশাক পরিবর্তন করে খুব বেশি কাজে আসবে না। শুধু সরকারের অর্থ ব্যয় হবে। কারণ, আগেও অনেকবার পোশাক পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পুলিশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পোশাক পরিবর্তনের সঙ্গে পুলিশের মনোভাব পরিবর্তনও জরুরি।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, একটি বাহিনীর পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে কার্যকলাপ পরিবর্তন করা যায় না। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ খাকি পোশাক পরতো। খাকি পোশাক এখনো শ্রীলঙ্কান পুলিশ পরে। তাদের দক্ষতা তো কমে যায়নি। পুলিশ বাহিনীর কর্মক্ষমতা ও কার্যকলাপের সঙ্গে পোশাকের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশের সবকিছু ভেঙে পড়েছে। এ জন্য পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি।

পুলিশের পোশাক নির্ধারণ হয়েছে লোহার (আয়রন) রঙের। র‍্যাবের পোশাক জলপাই (অলিভ) রঙের। আর আনসারের পোশাক সোনালি গমের (গোল্ডেন হুইট) রঙের। আপাতত মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা পোশাক পাবেন। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের জেলা পুলিশ সদস্যদের নতুন পোশাক দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, পুলিশকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পোশাক পরিবর্তন করা হচ্ছে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশের মনের উৎসাহ উদ্দীপনা নষ্ট হয়ে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনী সংস্কার ও পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ পুলিশ সদস্যদের দাবি ছিল বর্তমান পোশাক পরিবর্তন করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। সেই নতুন পোশাক সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার চূড়ান্ত হয়েছে।

যেভাবে পোশাক পরিবর্তন হয় অন্যান্য দেশে
বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক দুই ভাবে নির্ধারণ করা হয়। দেশ-কালের ওপর ভিত্তি করে সেবা সংস্থাগুলোর পোশাক নির্ধারণ করা হয় বেশিরভাগ সময়। যেমন শীতপ্রধান দেশগুলোর পুলিশের পোশাকের রং হয় কালো রঙের। সেখানে তাপমাত্রা ধরে রাখার একটা বিষয় পোশাকে যুক্ত থাকে। গরম বা নাতিশীতোষ্ণ দেশগুলোতে পুলিশের পোশাক সাদা, খয়েরি বা হালকা রঙের দেখা যায়, যা কি না তাপ শোষণ কম করে। ভারত বা এ অঞ্চলে বিভিন্ন সেবাসংস্থার পোশাক খাকি হওয়ার আরেকটি কারণ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাস।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা

পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের নতুন ইউনিফর্মের চূড়ান্ত অনুমোদন

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের নতুন ইউনিফর্মের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এখন অর্থ বিভাগ থেকে বাজেট পাওয়ার পরই নতুন পোশাক কেনা হবে। এছাড়া আগের চেয়ে পোশাকের সংখ্যা বাড়ানো হবে পুলিশের।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের নতুন পোশাক দিতে চায়। এজন্য অর্থ বিভাগ থেকে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ নিয়ে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে নতুন পোশাক কেনার কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। আগে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বছরে পোশাক দেওয়া হতো চারটি। এখন থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বছরে পোশাক দেওয়া হবে পাঁচটি।

জানা যায়, তিন বাহিনীর সদস্যদের নতুন পোশাকের জন্য ব্যয় হবে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ সদস্যের নিজেদের কার্যকলাপ যদি পরিবর্তন না করা যায় তবে পোশাক পরিবর্তন করে খুব বেশি কাজে আসবে না। শুধু সরকারের অর্থ ব্যয় হবে। কারণ, আগেও অনেকবার পোশাক পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পুলিশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পোশাক পরিবর্তনের সঙ্গে পুলিশের মনোভাব পরিবর্তনও জরুরি।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, একটি বাহিনীর পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে কার্যকলাপ পরিবর্তন করা যায় না। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ খাকি পোশাক পরতো। খাকি পোশাক এখনো শ্রীলঙ্কান পুলিশ পরে। তাদের দক্ষতা তো কমে যায়নি। পুলিশ বাহিনীর কর্মক্ষমতা ও কার্যকলাপের সঙ্গে পোশাকের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশের সবকিছু ভেঙে পড়েছে। এ জন্য পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি।

পুলিশের পোশাক নির্ধারণ হয়েছে লোহার (আয়রন) রঙের। র‍্যাবের পোশাক জলপাই (অলিভ) রঙের। আর আনসারের পোশাক সোনালি গমের (গোল্ডেন হুইট) রঙের। আপাতত মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা পোশাক পাবেন। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের জেলা পুলিশ সদস্যদের নতুন পোশাক দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, পুলিশকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পোশাক পরিবর্তন করা হচ্ছে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশের মনের উৎসাহ উদ্দীপনা নষ্ট হয়ে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনী সংস্কার ও পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ পুলিশ সদস্যদের দাবি ছিল বর্তমান পোশাক পরিবর্তন করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। সেই নতুন পোশাক সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার চূড়ান্ত হয়েছে।

যেভাবে পোশাক পরিবর্তন হয় অন্যান্য দেশে
বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক দুই ভাবে নির্ধারণ করা হয়। দেশ-কালের ওপর ভিত্তি করে সেবা সংস্থাগুলোর পোশাক নির্ধারণ করা হয় বেশিরভাগ সময়। যেমন শীতপ্রধান দেশগুলোর পুলিশের পোশাকের রং হয় কালো রঙের। সেখানে তাপমাত্রা ধরে রাখার একটা বিষয় পোশাকে যুক্ত থাকে। গরম বা নাতিশীতোষ্ণ দেশগুলোতে পুলিশের পোশাক সাদা, খয়েরি বা হালকা রঙের দেখা যায়, যা কি না তাপ শোষণ কম করে। ভারত বা এ অঞ্চলে বিভিন্ন সেবাসংস্থার পোশাক খাকি হওয়ার আরেকটি কারণ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাস।

এমআর/সবা