* সাগরপথের নিরাপদ রুট উখিয়া-টেকনাফ
* অব্যাহত অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না নারী-শিশু পাচার
* আড়াই মাসে ৪৪৭ রোহিঙ্গা উদ্ধার, মূল হোতারা অধরা
‘পাচারের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতার করা না গেলে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচার বন্ধ হবে না। মানবপাচার প্রতিরোধে তৃণমূলে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই’
– মুহাম্মদ শাহ আলম, সমন্বয়ক, মানবপাচার রোধ প্রকল্প, বেসরকারি সংস্থা ডব্লিউআই, কক্সবাজার
‘উপকূল-সাগরের যেসব পয়েন্টে মানবপাচারের আশঙ্কা আছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পাচারচক্রের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে’
– মোঃ আঃ মান্নান, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না সাগরপথে মানবপাচার। সংঘবদ্ধ দালালচক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে ভালো চাকরি আর বেশি বেতনের আশ্বাস দিলে মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করছে বিদেশ গমনেচ্ছুক নারী ও শিশুসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে। চক্রের টার্গেটে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠী। দীর্ঘদিন ধরেই চক্রের সদস্যরা সাগরপথে মানবপাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে উখিয়া-টেকনাফের সীমান্তবর্তী সাগরপথকেই ব্যবহার করে আসছে। চক্রটির মিষ্টি কথায় আকৃষ্ট হয়ে জনপ্রতি দুই থেকে ৫ লাখ টাকা চুক্তিতে দালালদের কব্জায় আটকে পড়ছেন। পরে তাদের নিয়ে রাখা হয় পাহাড়ের গহীন জঙ্গলের গোপন আস্তানায়। সুযোগ বুঝে ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার কাঠের ট্রলারে তুলে মাঝ সাগরে অপেক্ষায় থাকা অপর বোটে তুলে দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তাদের অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিচ্ছেন। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দালালচক্রের সদস্যরা ধরা পড়লেও কিছুদিন জেল খেটে জামিনে ছাড়া পেয়ে সেই পুরনো পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু এসব দালালচক্রের সদস্যরা বরাবরই রয়ে যাচ্ছেন অধরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত আড়াই মাসে সাগরপথে পাচারের চেষ্টাকালে ৪৪৭ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। আমেরিকানভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের (ডব্লিউআই) কক্সবাজার অফিসের মানবপাচার রোধ প্রকল্পের সমন্বয়ক মুহাম্মদ শাহ আলমের মতে, মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতার করা না গেলে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচার বন্ধ হবে না। মানবপাচার প্রতিরোধে তৃণমূলে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান বলছেন, এ জেলার উপকূল-সাগরের যেসব পয়েন্টে মানবপাচারের আশঙ্কা আছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পাচারচক্রের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মানবপাচারে জড়িত সংঘবদ্ধ দালালচক্র জেলে-কৃষকসহ নানা ছদ্মবেশ ধারণ করে কক্সবাজারের সমুদ্র তীরবর্তী দুর্গম পাহাড়ি জনপদ উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা ও বসবাস করেন। সুযোগ বুঝে মিথ্যা প্রলোভনে ভালো বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাঙালিদের টার্গেট করে প্রলুব্ধ করছেন দালালরা। এরপর জনপ্রতি ন্যূনতম ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা চুক্তিতে বিদেশগমনেচ্ছুক নারী-শিশুসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে আকৃষ্ট করে দুর্গম পাহাড়ের গোপন আস্তানায় নিজেদের ডেরায় আটকে রাখছেন। এরপর বৈরী আবহাওয়া ও রাতের অন্ধকারে সুযোগ বুঝে প্রায়ই সাগরের তীরবর্তী নোঙর করা ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলারে তুলে সাগরের মাঝে অপেক্ষায় থাকা আরেক জাহাজে তুলে দিচ্ছেন দালালরা। সেই জাহাজে নেই পর্যাপ্ত পানি, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম। এরপর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে অনেকেই মধ্যসাগরে ডুবে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার আগেই সেসব দেশগুলোর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে জেল খেটে নিঃস্ব হয়ে নিজ দেশে ফেরৎ আসছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, অল্প টাকা খরচ করে বিদেশ গমনেচ্ছুকরা দালালের মিষ্টি কথা প্রলুব্ধ হয়ে আটকে পড়ছেন। সেক্ষেত্রে স্বচ্ছল পরিবারের কিছু সদস্যকে গহীন জঙ্গলে আটকে রেখে জিম্বি করে মুক্তি দেওয়ার শর্তে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতারকরা। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে থাকা একটি ট্রলার থেকে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুসহ ২৭৩ জনকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনীর সদস্যরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাচারকারী চক্রের মূল হোতারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মানবপাচার চেষ্টা বন্ধ হচ্ছে না। ফলে সক্রিয় দালালচক্র উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গাদের প্রতিটি ক্যাম্পভিত্তিক অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তবে অবৈধভাবে বিপজ্জনক সাগরপথে পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, গত ৪ জানুয়ারি সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে একটি ট্রলার জব্দ করে দালালসহ ২৭৩ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। যার বেশিরভাগ নারী ও শিশু। এছাড়া সদস্য বিদায়ী ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিজিবি ১৮ জনকে আটক করে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর কোস্টগার্ড ২৮ জন, ২৯ অক্টোবর ২৬ জনকে আটক করেছে। এছাড়া, একইদিন র্যাব আটক করে ২৪ জনকে, গত বছরের ২৬ অক্টোবর কোস্টগার্ড আটক করে ৫ জন ও ২৪ অক্টোবর ৪৪ জন এবং ২২ অক্টোবর বিজিবি ২৯ জনকে উদ্ধার ও আটক করা হয়। যাদের সবাই পাচারের শিকার হয়েছিলেন। ঘটনার শিকার নর-নারীকে টেকনাফের বাহারছড়া গহীন পাহাড় ও মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকা, সমুদ্র উপকূল এবং সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।
উদ্ধার রোহিঙ্গা নারীদের বরাত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, অবিবাহিত নারীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে। আবার যেসব নারীর স্বামী মালয়েশিয়ায় তারাও যে কোনোভাবে মালয়েশিয়া যেতে উন্মুখ। আরাকানে (রাখাইনে) যাদের অবস্থা স্বচ্ছল ছিল, সেসব পরিবার যে কোনো মূল্যে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা মালয়েশিয়া যেতে তৎপর। অনেক তরুণী ও কম বয়সে বিধবা নারীরাই মালয়েশিয়া যেতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। যে কোনোদিন সুযোগ কাজে লাগলে তারা সফল হবে বলে আশাবাদী।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পলিথিনের ঝুপড়ি ঘর থেকে বেরুতে চাওয়ার বাসনা রয়েছে, এমন নারী-পুরুষের বিষয়ে জানা ক্যাম্পভিত্তিক দালালরা বিভিন্ন প্রলোভনে মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুকদের উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি ক্যাম্পে থাকলে একদিন মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে বলেও ভয় দেখায়। যুবকদের ভাল বেতনের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। ফলে অনেক রোহিঙ্গা এমনকি স্থানীয় অস্বচ্ছল বাঙালিরাও তাদের ফাঁদে পড়ে মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী হয়ে উঠে।
তথ্য পর্যালোচনায় আরও জানা যায়, মালয়েশিয়া যেতে রাজি হওয়াদের কাছ থেকে দশ থেকে বিশ হাজার টাকা ‘টোকেন মানি’ আদায় করা হয়। চুক্তি হয় মালয়েশিয়া পৌঁছে গেলে বাকি টাকা দেওয়ার। ক্যাম্পের দালালদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে রয়েছে সুযোগসন্ধানী বাংলাদেশি দালালও। রাজি হওয়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প হতে বের করে তাদের বাংলাদেশি দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আর বাংলাদেশি দালালরা সুযোগ বুঝে ট্রলার বা নৌকায় সাগরে অবস্থান করা জাহাজে তুলে দেয়ার চেষ্টা চালায়। ক্ষেত্র বিশেষে তারা ধরা পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সফল হয় বলে দাবি করেছেন মালয়েশিয়ার জন্য ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে, মানবপাচার চক্রের খপ্পরে পড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে অনেক রোহিঙ্গা প্রতারণারও শিকার হয়েছেন। কোনো জবাবদিহিতা নেই জেনে উদ্বাস্তু এসব রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে মিথ্যার আশ্রয় নেয় দালালরা। তারা সাগরে ট্রলার অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ধরা না পড়ে তীরে পৌঁছে গেলে পাচারকারীরা রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া নিয়ে যাবার নামে ট্রলারে তুলে সাগরে দু-তিন দিন ঘুরিয়ে টেকনাফ বা উপকূলের কোনো না কোনো এলাকায় নামিয়ে দেয় এবং বলে যে, তারা মালয়েশিয়ার তীরে পৌঁছেছে। শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম চর, সোনাদিয়া দ্বীপ, সেন্টমার্টিনসহ উপকূলে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। সেসব রোহিঙ্গাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, জনপ্রতি টাকা হাতে চলে এলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচিত কোনো বিভাগের সদস্যদের তথ্য দিয়ে জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় দালালরা সটকে পড়ে। এতে কিছু না করেই একটি মোটা অংকের টাকা আয় করে চম্পট দিতো দালালচক্রের সদস্যরা।

আমেরিকানভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের (ডব্লিউআই) কক্সবাজার অফিসের মানবপাচার রোধ প্রকল্পের সমন্বয়ক মুহাম্মদ শাহ আলম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, সুন্দর জীবনের স্বপ্ন ও প্রতারণার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেকে সাগর তীরে মালয়েশিয়া যাত্রার ইতি টানলেও ‘মানবপাচার’ চেষ্টা থামছে না। তবে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতার করা না গেলে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচার বন্ধ হবে না। মানবপাচার প্রতিরোধে তৃণমূলে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও জানান মানবপাচার রোধ প্রকল্পের সমন্বয়ক মুহাম্মদ শাহ আলম ।
এদিকে কক্সবাজার নাগরিক সমাজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আর্থিক দৈন্যতা ও লোভ আমাদের পাচারের ঝুঁকিতে ফেলছে। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের মানুষ পাচারের শিকার হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিত কাজ করলে পাচার রোধ অনেকাংশে সম্ভব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-৭ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন লে. কর্নেল নাইমুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক পাচারচক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। চিহ্নিত দালালদের অনেকে আইনের আওতায় এসেছে। বাকিদেরও বিষয়েও সচেষ্ট রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।
নৌ-বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের সাগরপথ সুরক্ষা রাখতে সবাই কাজ করছি আমরা। সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার ঠেকাতে সবসময় সজাগ রয়েছে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিট।
এদিকে দেশের আরেক সীমান্ত এলাকা রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম হোসেন দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, দালালদের মিথ্যা প্রলোভনে পা না দিয়ে বরং তথ্য জেনে ও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ গেলে অভিবাসন নিরাপদ হবে এবং মানবপাচারের ঝুঁকি কমবে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি অনিরাপদ অভিবাসনই মানবপাচারের আওতায় পড়ে, যা অত্যন্ত ভয়ানক।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, সরকারের চেষ্টার যেমন কমতি নেই, তেমনি পাচারকারীদের অপচেষ্টাও থেমে নেই। সাগরপথে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে মানবপাচার চেষ্টার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। এ জেলার উপকূল ও সাগরের যেসব পয়েন্ট দিয়ে মানবপাচারের আশঙ্কা আছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মানবপাচারে জড়িত সংঘবদ্ধ দালাল ও চক্রের মূল হোতাদের ব্যাপারেও খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
























