০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ ‘কনকন’

তাপমাত্রা নামবে ৬ ডিগ্রিতে

শীতে কাঁপছে সারা দেশ, তাপমাত্রা আরও কমবে

বিমান চলাচল ব্যাহত, বন্ধ লঞ্চ চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় ঢেকেছে প্রকৃতি। জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। এমন অবস্থায় দেশের দিকে ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ ‘কনকন’। তাপমাত্রা নামতে পারে ৬ ডিগ্রিতে। বিশেষ এক বার্তায় আবহওয়া নিয়ে এমনটাই দুঃসংবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। বিডব্লিউওটি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই শৈত্যপ্রবাহটি ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি অথবা ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে এর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ ছাড়াও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এই শৈত্যপ্রবাহ বেশ সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও শীতের দাপট বাড়বে। তবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় এর প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা ও উপকূলীয় এলাকায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হলেও সেখানে শৈত্যপ্রবাহের সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। শৈত্যপ্রবাহ চলাকালে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও পাবনাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট, কুমিল্লা ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নামতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ শুরুর প্রথম দুই-তিন দিন দেশজুড়ে ঘন কুয়াশার দাপট বেশি থাকবে। তবে পরবর্তীতে কুয়াশা কিছুটা কমলে দিনের বেলায় রোদের দেখা মিলতে পারে। নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা থাকলেও রাতে কনকনে শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে। ঢাকা ও উপকূলীয় এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। মাঘ মাস আসতে এখনো অনেক বাকি। গতকাল সোমবার ছিল ১৪ পৌষ। তবে এখনই হাড়কাঁপানো শীত পড়েছে দেশজুড়ে। আজ সকাল ৬টায় দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ রাতে সারা দেশেই তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। গতকাল সকাল ৯টা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকালে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪, রংপুরে ১৩, ময়মনসিংহে ১৩ দশমিক ৬, সিলেটে ১৪ দশমিক ৫, চট্টগ্রামে ১৫ দশমিক ৭ এবং খুলনা ও বরিশালে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার কারণে দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্ন হতে পারে উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে আজ রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়ার অস্তিত্ব ধারণ করতে হবে: আসিফ নজরুল

ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ ‘কনকন’

আপডেট সময় : ০৭:২৮:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

তাপমাত্রা নামবে ৬ ডিগ্রিতে

শীতে কাঁপছে সারা দেশ, তাপমাত্রা আরও কমবে

বিমান চলাচল ব্যাহত, বন্ধ লঞ্চ চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় ঢেকেছে প্রকৃতি। জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। এমন অবস্থায় দেশের দিকে ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ ‘কনকন’। তাপমাত্রা নামতে পারে ৬ ডিগ্রিতে। বিশেষ এক বার্তায় আবহওয়া নিয়ে এমনটাই দুঃসংবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। বিডব্লিউওটি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই শৈত্যপ্রবাহটি ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি অথবা ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে এর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ ছাড়াও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এই শৈত্যপ্রবাহ বেশ সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও শীতের দাপট বাড়বে। তবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় এর প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা ও উপকূলীয় এলাকায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হলেও সেখানে শৈত্যপ্রবাহের সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। শৈত্যপ্রবাহ চলাকালে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও পাবনাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট, কুমিল্লা ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নামতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ শুরুর প্রথম দুই-তিন দিন দেশজুড়ে ঘন কুয়াশার দাপট বেশি থাকবে। তবে পরবর্তীতে কুয়াশা কিছুটা কমলে দিনের বেলায় রোদের দেখা মিলতে পারে। নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা থাকলেও রাতে কনকনে শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে। ঢাকা ও উপকূলীয় এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। মাঘ মাস আসতে এখনো অনেক বাকি। গতকাল সোমবার ছিল ১৪ পৌষ। তবে এখনই হাড়কাঁপানো শীত পড়েছে দেশজুড়ে। আজ সকাল ৬টায় দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ রাতে সারা দেশেই তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। গতকাল সকাল ৯টা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকালে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪, রংপুরে ১৩, ময়মনসিংহে ১৩ দশমিক ৬, সিলেটে ১৪ দশমিক ৫, চট্টগ্রামে ১৫ দশমিক ৭ এবং খুলনা ও বরিশালে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার কারণে দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্ন হতে পারে উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে আজ রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।