সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) র্যাগিং ও হলের সিট বণ্টন নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতি, মেধাভিত্তিক সিট বণ্টন এবং আইনানুগ শাস্তির বিষয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদার। সম্প্রতি এ বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি মুখোমুখি হন।
তিনি জানান, র্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—কোনো ধরনের ছাড় নেই। ৫ আগস্টের পর কিছু ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তৎপরতা ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রোক্টরিয়াল বডি, হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিহত করা যায়। এর ফলে ক্যাম্পাসে র্যাগিংয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে হলের ভেতরে বা ছাদে এ ধরনের ঘটনার কথা শোনা গেলেও বর্তমানে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। অফ-ক্যাম্পাসে নিয়ে গিয়ে র্যাগিংয়ের প্রবণতাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
র্যাগিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, র্যাগিং বা বুলিং সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ একটি বেআইনি কাজ। সাধারণত নবীন শিক্ষার্থীরাই এর শিকার হয়। স্কুল-কলেজের পরিবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ পরিসরে এসে যদি তারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, তবে তাদের ছাত্রজীবন, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। র্যাগিং কখনোই কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।
র্যাগিং প্রতিরোধে আলাদা কোনো সেল রয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথক কোনো র্যাগিং প্রতিরোধ সেল নেই। তবে প্রচলিত আইনের আওতায় হলের প্রভোস্টদের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রোক্টরিয়াল বডি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এসব কাঠামোর মাধ্যমেই র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ জানালে নিরাপত্তা বা ক্যারিয়ার ঝুঁকির আশঙ্কা প্রসঙ্গে অধ্যাপক তালুকদার বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি মনে করে অভিযোগ করার কারণে সে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, তাহলে প্রশাসন তার পরিচয় ও তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করবে। ক্যাম্পাসে কাউকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ নেই। সিনিয়র বা অন্য যেকোনো পর্যায়ের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ র্যাগিং প্রতিরোধ সেল গঠনের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি প্রক্রিয়ামূলক বিষয়। প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের দাবি ও সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
হলের সিট বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, র্যাগিংয়ের সঙ্গে সিট বণ্টনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমানে হলের সিট বণ্টন সম্পূর্ণভাবে হল প্রশাসন ও প্রভোস্টদের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। প্রশাসনের বাইরে কারও সিট দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। শিক্ষার্থীদের সমস্যা থাকলে তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে পারে এবং বিষয়টি যৌক্তিক হলে প্রশাসনই ব্যবস্থা নেয়। কেউ যদি অবৈধভাবে সিট দেওয়া–নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে; এমনকি ছাত্রত্ব বাতিলের বিধানও রয়েছে।
ভবিষ্যতে সিট বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে প্রশাসন মেধাভিত্তিক সিট বণ্টনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রভোস্টদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিনিয়র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই শিক্ষার্থী। যারা আগে থেকে ক্যাম্পাসে আছে, তাদের উচিত পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া এবং জুনিয়রদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা। র্যাগিং নয়, বরং স্নেহ ও গঠনমূলক পরামর্শের মাধ্যমেই নবীনদের এগিয়ে নেওয়া উচিত।
নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা ও গুরুজনদের উপদেশ অনুসরণ করা, ভালো বন্ধু নির্বাচন করা এবং নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা জরুরি। পড়াশোনা ও ইতিবাচক সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।
শু/সবা

























