০৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদি হত্যা মামলায়: সময় বাড়াল আদালত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আরও পাঁচ দিনের সময় দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও সিআইডি তা জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এ সময় সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে সময়ের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের একই আদালতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। আদালত ওই নারাজি মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তভার সিআইডিকে দেন।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি

হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার এবং দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে, গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭)। এছাড়া তার পরিবারের সদস্য, সহযোগী, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ভারতে পালাতে সহায়তাকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ওসমান হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে—রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে হামলা চালানো হয়।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ওসমান হাদি হত্যা মামলায়: সময় বাড়াল আদালত

আপডেট সময় : ০৪:২৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আরও পাঁচ দিনের সময় দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও সিআইডি তা জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এ সময় সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে সময়ের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের একই আদালতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। আদালত ওই নারাজি মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তভার সিআইডিকে দেন।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি

হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার এবং দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে, গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭)। এছাড়া তার পরিবারের সদস্য, সহযোগী, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ভারতে পালাতে সহায়তাকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ওসমান হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে—রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে হামলা চালানো হয়।

শু/সবা