চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) হাল্ট প্রাইজ ২০২৫–২৬ সেশনের ক্যাম্পাস প্রোগ্রামের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে “টিম চতুষ্কোণ”। তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১২, ১৩ ও ১৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া “টিম দ্য অপটিমিস্টিক” প্রথম রানার-আপ হয়েছে, যাদের প্রকল্পটি এসডিজি ৯, ১২ ও ১৩-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে “টিম মৌমাছি” দ্বিতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে, যাদের প্রকল্পটি এসডিজি ১২, ১৩ ও ১৪-কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে এই চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পবিত্র কুরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উদ্ভাবন, সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫–২৬ সেশন। এর নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাম্পাস ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ অনিক, চিফ অফ স্টাফ কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম মুনাজ এবং চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট কারিন সাফফানা। এসময় চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট কারিন সাফফানা বলেন, “হাল্ট প্রাইজ শুধু একটি কম্পিটিশন না, এটি একটি সামাজিক উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম, যেটি শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন চিন্তার উদ্ভব করে।”
চিফ অফ স্টাফ কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম মুনাজ বলেন, “হাল্ট প্রাইজ হচ্ছে সকলের মিলন মেলা, যেটি সাংগঠনিক সদস্যদের একসাথে একত্র করে।” এবারের প্রতিযোগিতায় বিচারক প্যানেলে দায়িত্ব পালন করেন গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক প্রধান মোহাম্মদ মিনহাজ উল আলম, সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেডের চট্টগ্রাম জোনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিক্রয় বিভাগের প্রধান আরিফ ইফতেখার এবং এন. মোহাম্মদ গ্রুপের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারমান তোয়ুব।
বিচারকরা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ব্যবসায়িক ধারণা, সামাজিক প্রভাব, টেকসইতা এবং বাস্তবায়নযোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেন। চূড়ান্ত পর্বে মোট ছয়টি দল অংশগ্রহণ করে। দলগুলো হলো টিম আবরণ, টিম দ্য ইনোভেটরস্, টিম ট্রিও গ্রাইন্ড, টিম মৌমাছি, টিম চতুষ্কোণ এবং টিম দ্য অপটিমিস্টিক। প্রতিযোগিতাকালে দলগুলোর জন্য দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন অভিজ্ঞ মেন্টররা।
টিম আবরণ-এর মেন্টর হিসেবে ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সম্পদ ও খুচরা ব্যাংকিং বিভাগের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েট এবং বিজমাস্ট্রোস ২০২৩-এর চ্যাম্পিয়ন শুভাশিস চক্রবর্তী। টিম দ্য ইনোভেটরস্-এর মেন্টর ছিলেন ডন সামদানি ফ্যাসিলিটেশন অ্যান্ড কনসালটেন্সির ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার এবং ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের মেন্টর তাসমিম হোসাইন তুবা। টিম ট্রিও গ্রাইন্ড-এর মেন্টর হিসেবে ছিলেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কাস্টমার ডেভেলপমেন্ট ট্রেইনি এবং কোড গ্রিন আফগানিস্তানের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মাশরুর আহমেদ। তিনি হাউস অব ভেঞ্চার স্টার্টআপ ইনকিউবেটর প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক যুব ও শিক্ষার্থী গেমসে ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্ত।
টিম মৌমাছি-এর মেন্টর ছিলেন লেটস্ গেট মুভিং কানাডার সেলস কনসালট্যান্ট তাসনিম এইচ চৌধুরী, যিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় হাল্ট প্রাইজ, এপিটোম ৩.০ এবং পোম্যাক ৫.০-এর চ্যাম্পিয়ন। টিম চতুষ্কোণ-এর মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গ্লোবাল ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সোর্সিং অ্যানালিস্ট মোঃ শিহাবুজ্জামান।
এছাড়া টিম দ্য অপটিমিস্টিক-এর মেন্টর ছিলেন টার্টল ভেঞ্চারের ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক, মেকানিক কই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বেস্ট এইড লিমিটেডের সিএসআই আলভি রহমান।
উল্লেখ্য, হাল্ট প্রাইজ প্রতি বছর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বৈশ্বিক থিম নির্ধারণ করে। ২০২৫–২৬ সেশনের থিম ছিল “আনলিমিটেড”, যা আন্তঃসংযুক্ত বৈশ্বিক সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান ও নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধানে তরুণদের অনুপ্রাণিত করে।
শু/সবা


























