০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে বড় পরিসরে পুনর্নির্মাণ হবে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরাল

নরসিংদীতে মহাসড়ক উন্নতকরণে অপসারণকৃত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালের পুণর্নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় দুপুরে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. মাসুদ রানা। এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটি অপসারণ করা হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের পরিবারের অনুমতি ক্রমেই এই ম্যুরালটি সড়ানো হয় বলে জানা যায়। শুধু তাই নয় সড়ক সংস্কারের জন্য নির্ধারিত জায়গার পর মহাসড়কের পাশেই পূর্ব থেকে আরও বড় পরিসরে এই ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে জানান রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ভেঙে ফেলা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মুর‌্যল

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই ম্যুরালটি সাময়িকভাবে অপসারণ করেছে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর। এতে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান বা অবহেলার বিষয় নেই। আগের নকশা ও কাঠামো অনুসরণ করে ম্যুরালটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে এবং আগের চেয়ে আরো বড় আকারে ৩০ ফুট বাই ৩০ ফুট করা হবে। আগে ছিল ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট। যাতে করে দূর থেকে ম্যুরালটি আরো ভালোভাবে দেখা যায়।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলমান। আমরা প্রথমে চেয়েছিলাম বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটি রেখেই উন্নয়ন কাজ যেন করা হয়। কিন্তু ম্যুরালটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যায়। তাই সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ম্যুরালটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গার পর সড়কের পাশেই আগের চেয়ে বড় আকারে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটির নির্মাণকাজ ২৩ জানুয়ারি
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। আগের নকশা অনুযায়ী পুননির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চের আগেই নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে আশা করা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। দেশের প্রতি অকৃত্রিম প্রেম ও ভালবাসায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০০৮ সালে তার গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিফলক ‘বাংলার ঈগল’ নির্মাণ করা হয়। ত্রিমুখী কালো পাথরের এই ফলকের একটি স্তম্ভে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতিকৃতি, আরেকটিতে জীবনবৃত্তান্ত। অন্যটি খোলা আকাশের প্রতীক হিসেবে ফাঁকা রাখা হয়েছে। মাঝে ত্রিভুজ আকৃতির স্তম্ভে টেরাকোটায় মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সবার ওপরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের প্রবেশ নির্দেশক।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

নরসিংদীতে বড় পরিসরে পুনর্নির্মাণ হবে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরাল

আপডেট সময় : ০৩:৪১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীতে মহাসড়ক উন্নতকরণে অপসারণকৃত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালের পুণর্নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় দুপুরে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. মাসুদ রানা। এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটি অপসারণ করা হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের পরিবারের অনুমতি ক্রমেই এই ম্যুরালটি সড়ানো হয় বলে জানা যায়। শুধু তাই নয় সড়ক সংস্কারের জন্য নির্ধারিত জায়গার পর মহাসড়কের পাশেই পূর্ব থেকে আরও বড় পরিসরে এই ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে জানান রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ভেঙে ফেলা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মুর‌্যল

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই ম্যুরালটি সাময়িকভাবে অপসারণ করেছে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর। এতে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান বা অবহেলার বিষয় নেই। আগের নকশা ও কাঠামো অনুসরণ করে ম্যুরালটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে এবং আগের চেয়ে আরো বড় আকারে ৩০ ফুট বাই ৩০ ফুট করা হবে। আগে ছিল ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট। যাতে করে দূর থেকে ম্যুরালটি আরো ভালোভাবে দেখা যায়।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলমান। আমরা প্রথমে চেয়েছিলাম বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটি রেখেই উন্নয়ন কাজ যেন করা হয়। কিন্তু ম্যুরালটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যায়। তাই সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ম্যুরালটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গার পর সড়কের পাশেই আগের চেয়ে বড় আকারে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটির নির্মাণকাজ ২৩ জানুয়ারি
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। আগের নকশা অনুযায়ী পুননির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চের আগেই নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে আশা করা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। দেশের প্রতি অকৃত্রিম প্রেম ও ভালবাসায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০০৮ সালে তার গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিফলক ‘বাংলার ঈগল’ নির্মাণ করা হয়। ত্রিমুখী কালো পাথরের এই ফলকের একটি স্তম্ভে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতিকৃতি, আরেকটিতে জীবনবৃত্তান্ত। অন্যটি খোলা আকাশের প্রতীক হিসেবে ফাঁকা রাখা হয়েছে। মাঝে ত্রিভুজ আকৃতির স্তম্ভে টেরাকোটায় মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সবার ওপরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের প্রবেশ নির্দেশক।

এমআর/সবা