ভোটে ষড়যন্ত্র ঠেকাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঘরে ঘরে তাহাজ্জুদে নামাজ পড়ে স্ব-স্ব ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বারবার করে ভোটের অধিকার খর্ব করার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিএনপি নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। পলোগ্রাউন্ডসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা জুড়ে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক মানুষকে তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় “অনরা ক্যান আছনে?” (আপনি কেমন আছেন?) বলে বক্তব্য শুরু করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ভোটের অধিকার নষ্ট করার ষড়যন্ত্র ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান—এই ষড়যন্ত্রের প্রতি সজাগ থাকুন, সতর্ক থাকুন, যাতে আপনারা অধিকার হারান না। আপনাদের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার এবং বেঁচে থাকার অধিকার কেউকে হরণ করতে না পারে।”
কখন ভোট দেবেন নেতাকর্মীরা—এই প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এবার ফজরের সময় ঘুমিয়ে থাকা নয়, তাহাজ্জুদে নামাজ পড়তে হবে। তাহাজ্জুদে নামাজ শেষে আপনার ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তারপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত হবেন। ইনশাল্লাহ।”
পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যাতে কেউ আপনার ভোটের অধিকার হরণ করতে না পারে, মা-বোনদেরও আমার অনুরোধ—সদা সতর্ক থাকবেন, সজাগ থাকবেন।”
বিএনপি সরকার গঠন করলে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “দেশকে সচল রাখতে হলে দুটি বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। অতীতে বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, প্রমাণ করেছে—একমাত্র বিএনপি এই দুটি কাজ সফলভাবে করতে পারে। এক, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দুই, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-ব্যবস্থা সুষ্ঠু রাখা।”
তিনি বলেন, “দশকের যেকোনো সময়, এমনকি আমাদের দলের কেউ অনৈতিক কাজে জড়িত হলে তার ক্ষেত্রেও ছাড় দেয়া হয়নি। আজকের বাংলাদেশে মানুষ যদি আমাদের পাশে থাকে, আগামীদিনেও আমরা কঠোর হস্তে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করব, যাতে সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘ্নে জীবনযাপন করতে পারে।”
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “যে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের পরও আইনশৃঙ্খলা না থাকলে কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপি পক্ষই তা করতে পারে। আমরা যেকোনো মূল্যে ভবিষ্যৎ সরকারের দুর্নীতিকে প্রতিহত করব।”
সকল মানুষকে নতুন প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা চাই সমতল ও পাহাড়ের মানুষ, ইসলাম ধর্মের মানুষ বা অন্য ধর্মের মানুষ—সবাই মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করে, বাকস্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করে—সকলকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি, ধানের শীষে বিশ্বাস রাখুন, বিএনপিতে বিশ্বাস রাখুন।”
ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষদের একটি বড় দাবি রয়েছে। বিএনপির উদ্যোগে তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব। এতে সমগ্র চট্টগ্রামসহ বহু মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হবে। ইনশাল্লাহ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে খালদো জয়ির সঙ্গে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতিপূর্ণ, সরকারে গেলে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করব। তবে আপনাদের দায়িত্ব হলো—বৃদ্ধি ভোটে জয়যুক্ত করা।”
প্রতিদ্বন্দ্বীদলের সমালোচনায় অনাগ্রহ জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে নিয়ে অনেকেই কথা বলতে পারে, দোষত্রুটি তুলে ধরতে পারে। এতে জনগণ উপকৃত হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা ক্ষমতায় থেকে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে—দেশের মানুষকে কোটি কোটি যুবসমাজের কর্মসংস্থান দিতে। ১২ তারিখের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হলে শিক্ষার সব স্তরে পরিবর্তন আনব। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, হাসপাতাল সব গ্রামে পৌঁছানো হবে। জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করব। লাখ লাখ তরুণকে চাকরি দেওয়া হবে। আমাদের কথা একটাই—কাজ করব, দেশ গড়ব, সবার আগে বাংলাদেশ।”
এরপর তারেক রহমান চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জলোর ২৩টি সাংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করান। সমাবেশে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং ধানের শীষের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।
দুপুর ১২:২৫ মিনিটে তারেক রহমান সমাবেশে মঞ্চে পৌঁছান। লাখো নেতাকর্মী তুমুল করতালি ও স্লোগান দিয়ে তাকে বরণ করেন। সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে হোটেল রেডিসনে তরুণদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান।
শু/সবা





















