১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কান ধরে ওঠবস করানোর দুটি ভিডিও ছড়ানোর পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানালেন সর্বমিত্র চাকমা

কিশোর ও তরুণদের কান ধরিয়ে ওঠবস করাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য সর্বমিত্র চাকমা

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে।

তিনি লেখেন, সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই, নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানি ব্যাগ চুরি-সাইকেল চুরিসহ প্রায়ই বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও লেখেন, এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়। ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য লেখেন, কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গতমাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়, আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমা। আজ সোমবার এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে

 

তিনি লেখেন, আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সর্বমিত্র লেখেন, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।

সর্বমিত্র চাকমা

 

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসায় বেশ কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ সময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও সেখানে ছিলেন। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণ সারিতে দাঁড়িয়ে কান ধরে উঠবস করছেন। তাদের সামনে একটি লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনাটি ৬ জানুয়ারির বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজকে দেখলাম শিবির প্যানেল থেকে মনোনীত ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা একদল বাচ্চা ছেলেপেলেকে কান ধরিয়ে উঠবস করাচ্ছে আর লাঠি হাতে এদিক-ওদিক তেড়ে যাচ্ছে। ভয়ে বাচ্চা ছেলেগুলো কান ধরে উঠবস করতেছে।’

মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আবিদুর রহমান (মিশু) ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এবার শিবিরের গৃহপালিত ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা প্রক্টরের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে। অপরাধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে। অথচ বাচ্চারা কোনো অন্যায় করে থাকলে তার বিচারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এটাই শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা। এইটুক ক্ষমতাকে পুঁজি করেই এই অবস্থা করতেছে।’

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

কান ধরে ওঠবস করানোর দুটি ভিডিও ছড়ানোর পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানালেন সর্বমিত্র চাকমা

আপডেট সময় : ০৫:২১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে।

তিনি লেখেন, সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই, নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানি ব্যাগ চুরি-সাইকেল চুরিসহ প্রায়ই বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও লেখেন, এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়। ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য লেখেন, কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গতমাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়, আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমা। আজ সোমবার এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে

 

তিনি লেখেন, আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সর্বমিত্র লেখেন, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।

সর্বমিত্র চাকমা

 

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসায় বেশ কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ সময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও সেখানে ছিলেন। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণ সারিতে দাঁড়িয়ে কান ধরে উঠবস করছেন। তাদের সামনে একটি লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনাটি ৬ জানুয়ারির বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজকে দেখলাম শিবির প্যানেল থেকে মনোনীত ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা একদল বাচ্চা ছেলেপেলেকে কান ধরিয়ে উঠবস করাচ্ছে আর লাঠি হাতে এদিক-ওদিক তেড়ে যাচ্ছে। ভয়ে বাচ্চা ছেলেগুলো কান ধরে উঠবস করতেছে।’

মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আবিদুর রহমান (মিশু) ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এবার শিবিরের গৃহপালিত ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা প্রক্টরের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে। অপরাধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে। অথচ বাচ্চারা কোনো অন্যায় করে থাকলে তার বিচারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এটাই শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা। এইটুক ক্ষমতাকে পুঁজি করেই এই অবস্থা করতেছে।’

এমআর/সবা