০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে সারা দেশে এক লাখ সেনা মোতায়েন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সারা দেশে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।

রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। এবার সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আগের নির্বাচনে ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন নিয়ে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতেই সেনাবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে এই বাড়তি সেনা মোতায়েন কার্যকর রয়েছে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার সেনাসদস্য সংখ্যা কেন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন ছিল। তখন তারা মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন। এবারের নির্বাচন ভিন্ন বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে কারণেই কেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত সেনা টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্যকে ব্যারাকে রেখে বাকি সদস্যদের মাঠে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং জনগণের আস্থা জোরদার হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সেনা মোতায়েনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরা হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর নিজস্ব যানবাহন কিছুটা অপ্রতুল হওয়ায় অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও পর্যাপ্ত গাড়ি না পাওয়ায় প্রয়োজনে বেসরকারিভাবে গাড়ি ভাড়া করেও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সেনাসদর সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনী সময়জুড়ে সেনাবাহিনী টহল, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি সেবা হবে দ্রুত, দুর্নীতিমুক্ত এবং প্রযুক্তিনির্ভর: প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচনে সারা দেশে এক লাখ সেনা মোতায়েন

আপডেট সময় : ০৫:০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সারা দেশে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।

রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। এবার সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আগের নির্বাচনে ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন নিয়ে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতেই সেনাবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে এই বাড়তি সেনা মোতায়েন কার্যকর রয়েছে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার সেনাসদস্য সংখ্যা কেন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন ছিল। তখন তারা মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন। এবারের নির্বাচন ভিন্ন বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে কারণেই কেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত সেনা টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্যকে ব্যারাকে রেখে বাকি সদস্যদের মাঠে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং জনগণের আস্থা জোরদার হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সেনা মোতায়েনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরা হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর নিজস্ব যানবাহন কিছুটা অপ্রতুল হওয়ায় অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও পর্যাপ্ত গাড়ি না পাওয়ায় প্রয়োজনে বেসরকারিভাবে গাড়ি ভাড়া করেও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সেনাসদর সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনী সময়জুড়ে সেনাবাহিনী টহল, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।

শু/সবা