চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জে ডেলিভারি স্লিপ বাণিজ্য থামছে না » দৈনিক সবুজ বাংলা
১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জে ডেলিভারি স্লিপ বাণিজ্য থামছে না

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এখনো চলছে পণ্যের ডেলিভারি (ডেলিভারি অর্ডার) স্লিপ বাণিজ্য, যা কিছু ব্রোকারদের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। ব্রোকাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইস্যুকৃত স্লিপ এক সপ্তাহ থেকে শুরু করে এক মাস পর্যন্ত বিক্রি করে থাকেন। তবে এসব স্লিপে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ থাকে না—শুধুমাত্র পণ্যের নাম ও দাম লেখা থাকে। ফলে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে স্লিপ ইস্যু হয়েছে, তা বোঝা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

স্লিপ বিক্রির মাধ্যমে পণ্যের নামে কাগজের একটি টুকরো বারবার হাতবদল হয়। এর ফলে খাতুনগঞ্জে পণ্যবজারকে কেন্দ্র করে এক ধরনের জুয়া চলে প্রতিনিয়ত। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রেতার কাছে পণ্য আছে ১০০ টন, কিন্তু বাজারে ৫০০ টন পণ্যের ডেলিভারি স্লিপ বিক্রি করা হয়। যখন ক্রেতারা পণ্য ডেলিভারি নিতে যান, তখন বিক্রেতারা তা দিতে পারেন না। ফলে পাওনাদারদের টাকা বকেয়া থেকে যায় এবং অনেক স্লিপ ব্যবসায়ী খাতুনগঞ্জ থেকে উধাও হয়ে যান। এই পরিস্থিতি বাজারে আস্থার সংকট তৈরি করছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, খাতুনগঞ্জে ডেলিভারি স্লিপের আন্ডারগ্রাউন্ড বাণিজ্য চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গেলে কোনো প্রতিষ্ঠান স্পষ্টভাবে প্রমাণ দিতে পারে না। কারণ স্লিপে শুধুমাত্র পণ্যের নাম ও দাম লেখা থাকে, প্রতিষ্ঠান, সিল বা স্বাক্ষর উল্লেখ থাকে না।

বর্তমানে খাতুনগঞ্জে তেল, চিনি, এলাচ, মটরশুটি ও গমের ডেলিভারি স্লিপের ব্যবসা চলছে। বাজারে পণ্য আসার আগেই এই স্লিপগুলো কয়েক দফা হাতবদল হয়। ফলে পণ্যের বাজার ওঠানামা প্রায় ‘হাওয়ার ওপর’ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অভিযোগ আছে, ডেলিভারি স্লিপ বিক্রির পর যে দরে পণ্য বিক্রি হয়, বাজারদর যদি বেড়ে যায়, তখন তারা ডেলিভারি দিতে গরমিশি (অসুবিধা) করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্য আসলেও আমদানিকারক তার মনোনীত প্রতিনিধি মাধ্যমে ডেলিভারি স্লিপ বিক্রি করে রাখেন। এর ফলে কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়জে উল্যা জানান, ডেলিভারি স্লিপের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়েছি। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে যেখান থেকে স্লিপ ইস্যু হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আমাদের বলে যে তারা এসব পণ্যের ব্যবসা করে না। কারণ এখানে সাদা কাগজে শুধু পণ্যের নাম ও দাম লেখা থাকে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে শনাক্ত করা কঠিন, তাই আমরা শক্তভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি না।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে পাস ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বিল-২০২৬

চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জে ডেলিভারি স্লিপ বাণিজ্য থামছে না

আপডেট সময় : ০২:০৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এখনো চলছে পণ্যের ডেলিভারি (ডেলিভারি অর্ডার) স্লিপ বাণিজ্য, যা কিছু ব্রোকারদের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। ব্রোকাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইস্যুকৃত স্লিপ এক সপ্তাহ থেকে শুরু করে এক মাস পর্যন্ত বিক্রি করে থাকেন। তবে এসব স্লিপে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ থাকে না—শুধুমাত্র পণ্যের নাম ও দাম লেখা থাকে। ফলে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে স্লিপ ইস্যু হয়েছে, তা বোঝা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

স্লিপ বিক্রির মাধ্যমে পণ্যের নামে কাগজের একটি টুকরো বারবার হাতবদল হয়। এর ফলে খাতুনগঞ্জে পণ্যবজারকে কেন্দ্র করে এক ধরনের জুয়া চলে প্রতিনিয়ত। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রেতার কাছে পণ্য আছে ১০০ টন, কিন্তু বাজারে ৫০০ টন পণ্যের ডেলিভারি স্লিপ বিক্রি করা হয়। যখন ক্রেতারা পণ্য ডেলিভারি নিতে যান, তখন বিক্রেতারা তা দিতে পারেন না। ফলে পাওনাদারদের টাকা বকেয়া থেকে যায় এবং অনেক স্লিপ ব্যবসায়ী খাতুনগঞ্জ থেকে উধাও হয়ে যান। এই পরিস্থিতি বাজারে আস্থার সংকট তৈরি করছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, খাতুনগঞ্জে ডেলিভারি স্লিপের আন্ডারগ্রাউন্ড বাণিজ্য চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গেলে কোনো প্রতিষ্ঠান স্পষ্টভাবে প্রমাণ দিতে পারে না। কারণ স্লিপে শুধুমাত্র পণ্যের নাম ও দাম লেখা থাকে, প্রতিষ্ঠান, সিল বা স্বাক্ষর উল্লেখ থাকে না।

বর্তমানে খাতুনগঞ্জে তেল, চিনি, এলাচ, মটরশুটি ও গমের ডেলিভারি স্লিপের ব্যবসা চলছে। বাজারে পণ্য আসার আগেই এই স্লিপগুলো কয়েক দফা হাতবদল হয়। ফলে পণ্যের বাজার ওঠানামা প্রায় ‘হাওয়ার ওপর’ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অভিযোগ আছে, ডেলিভারি স্লিপ বিক্রির পর যে দরে পণ্য বিক্রি হয়, বাজারদর যদি বেড়ে যায়, তখন তারা ডেলিভারি দিতে গরমিশি (অসুবিধা) করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্য আসলেও আমদানিকারক তার মনোনীত প্রতিনিধি মাধ্যমে ডেলিভারি স্লিপ বিক্রি করে রাখেন। এর ফলে কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়জে উল্যা জানান, ডেলিভারি স্লিপের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়েছি। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে যেখান থেকে স্লিপ ইস্যু হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আমাদের বলে যে তারা এসব পণ্যের ব্যবসা করে না। কারণ এখানে সাদা কাগজে শুধু পণ্যের নাম ও দাম লেখা থাকে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে শনাক্ত করা কঠিন, তাই আমরা শক্তভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি না।

শু/সবা