কক্সবাজারে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব : লবণের ব্যাপক ক্ষতি » দৈনিক সবুজ বাংলা
০৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব : লবণের ব্যাপক ক্ষতি

কক্সবাজারে হঠাৎ গত দুই দিনে দুই দপা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়- ক্ষতি হয়েছে লবণ শিল্পে। কক্সবাজারের মহেশখালী পেকুয়া ও টেকনাফ উপজেলায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান লবণ চাষিরা।

মঙ্গলবার ভোররাতে এবং দিন শেষে আবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই দপা আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টিতে  মাঠভর্তি উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন লবণ পানিতে মিশে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ মৌসুমে দেশে লবণের জাতীয় চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছেন।
আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ সদরের ঈদগাহ,  উপজেলার রাজাখালী, মগনামা, উজানটিয়া ও সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজার হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠের লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে চাষিদের অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় করতে হবে। এতে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, উৎপাদন খরচ যেখানে প্রতি মণ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকার বেশি, সেখানে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা আগে থেকেই লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মাঠ ইজারা নিয়েছেন, ফলে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বদরখালীর লবণ চাষি মোহাম্মদ আমিন বলেন, মানুষের কাছ থেকে দেন দনা নিয়ে লবণ চাষে লগ্নি করেছিলে। মাঠের লবণের পাশাপাশি জমানো লবণ ও ঘরে তুলতে পারিনি। এখন মানুষের টাকা কি ভাবে পরিশোধ করবো জানি না। সরকার যদি এয় সময়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর মাধ্যমে সঠিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তাহলে লবণ চাষিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অন্যতায় লবণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হিমসিম খেতে হবে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে পাস ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বিল-২০২৬

কক্সবাজারে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব : লবণের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৭:০৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে হঠাৎ গত দুই দিনে দুই দপা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়- ক্ষতি হয়েছে লবণ শিল্পে। কক্সবাজারের মহেশখালী পেকুয়া ও টেকনাফ উপজেলায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান লবণ চাষিরা।

মঙ্গলবার ভোররাতে এবং দিন শেষে আবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই দপা আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টিতে  মাঠভর্তি উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন লবণ পানিতে মিশে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ মৌসুমে দেশে লবণের জাতীয় চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছেন।
আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ সদরের ঈদগাহ,  উপজেলার রাজাখালী, মগনামা, উজানটিয়া ও সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজার হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠের লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে চাষিদের অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় করতে হবে। এতে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, উৎপাদন খরচ যেখানে প্রতি মণ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকার বেশি, সেখানে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা আগে থেকেই লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মাঠ ইজারা নিয়েছেন, ফলে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বদরখালীর লবণ চাষি মোহাম্মদ আমিন বলেন, মানুষের কাছ থেকে দেন দনা নিয়ে লবণ চাষে লগ্নি করেছিলে। মাঠের লবণের পাশাপাশি জমানো লবণ ও ঘরে তুলতে পারিনি। এখন মানুষের টাকা কি ভাবে পরিশোধ করবো জানি না। সরকার যদি এয় সময়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর মাধ্যমে সঠিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তাহলে লবণ চাষিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অন্যতায় লবণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হিমসিম খেতে হবে।

শু/সবা