০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসব পালন করেছে বৌদ্ধরা

কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন বিহারে ধর্মীয় নানা আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। পাশাপাশি এইদিন সন্ধ্যায় ফানুস উৎসবে মেতেছে বৌদ্ধরা।
আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উৎসব পালন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। সরেজমিনে দেখা যায়- প্রবারণা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে উখিয়ার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার সাজানো হয় নানা রঙে।
দেশ, জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনায় শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পতাকা উদ্বোধন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ফুলপূজা, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিন্ডদানসহ নানাবিধ দান করেন ভক্তরা। আয়োজন করা হয় ধর্মীয় আলোচনা সভার। এছাড়াও বৌদ্ধ ভিক্ষু উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশ্যে পঞ্চশীল প্রদান ও ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন।
প্রবারণা পূর্ণিমা হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব। এই প্রবারণা পূর্ণিমা আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। এই প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব পালিত হয় আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে।
উখিয়ার মরিচ্যা দীপাংকুর বৌদ্ধ বিহারে সকাল থেকে নানা আয়োজনের মাধ্যমে প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসব শুরু হয়। এ সময় হাজার হাজার পুণ্যার্থী সাধু সাধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বিহার প্রাঙ্গণ।
বিহারে আসা ভক্তরা জানান, তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে আজকে আমাদের প্রবারণা উৎসব হচ্ছে। আমাদের এই ধর্মীয় উৎসবে আমরা জগতের সকল প্রাণীর শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি। পুরোনো দিনের সকল কষ্ট ভুলে গিয়ে নতুন করে প্রার্থনার মাধ্যমে শান্তি কামনা করে থাকি।
সন্ধ্যায় উখিয়ার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস (আকাশ বাতি) উড়ানো হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর বিভিন্ন বিহারে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু হয়।
সবাইকে মৈত্রীময় সহনশীলতা, বন্ধুত্বপূর্ণ চেতনাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উখিয়া সংঘরাজ ভিক্ষু সমিতির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতিঃ প্রজ্ঞা থের বলেন- সব হিংসা ভুলে সবার সঙ্গে মিলেমিশে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সবাই যেন অনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে বিরত রেখে জীবন যাপন করেন এই প্রত্যাশাও করেন তিনি। সবশেষে সুখে-শান্তিতে সবাই মিলে পৃথিবীতে যেন বসবাস করতে পারি সেই মঙ্গল কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি যুব উখিয়ার সভাপতি বিজন বড়ুয়া বলেন- বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এ প্রবারণা পূর্ণিমা। এদিন গৌতম বুদ্ধ ধর্ম প্রচার শুরু করেন। এ কারণে এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উখিয়া উপজেলার প্রায় ৫০টি বৌদ্ধ বিহারে একযোগে এ উৎসব পালন করেছে। তবে ফানুস উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তিন মাস বর্ষাবাস (ধ্যান) পালন করার পর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব পালন করে আসছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মীয় মতে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস। এর মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়।

নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে নেওয়া হচ্ছে

উখিয়ায় প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসব পালন করেছে বৌদ্ধরা

আপডেট সময় : ০৯:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৩
কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন বিহারে ধর্মীয় নানা আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। পাশাপাশি এইদিন সন্ধ্যায় ফানুস উৎসবে মেতেছে বৌদ্ধরা।
আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উৎসব পালন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। সরেজমিনে দেখা যায়- প্রবারণা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে উখিয়ার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার সাজানো হয় নানা রঙে।
দেশ, জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনায় শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পতাকা উদ্বোধন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ফুলপূজা, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিন্ডদানসহ নানাবিধ দান করেন ভক্তরা। আয়োজন করা হয় ধর্মীয় আলোচনা সভার। এছাড়াও বৌদ্ধ ভিক্ষু উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশ্যে পঞ্চশীল প্রদান ও ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন।
প্রবারণা পূর্ণিমা হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব। এই প্রবারণা পূর্ণিমা আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। এই প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব পালিত হয় আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে।
উখিয়ার মরিচ্যা দীপাংকুর বৌদ্ধ বিহারে সকাল থেকে নানা আয়োজনের মাধ্যমে প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসব শুরু হয়। এ সময় হাজার হাজার পুণ্যার্থী সাধু সাধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বিহার প্রাঙ্গণ।
বিহারে আসা ভক্তরা জানান, তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে আজকে আমাদের প্রবারণা উৎসব হচ্ছে। আমাদের এই ধর্মীয় উৎসবে আমরা জগতের সকল প্রাণীর শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি। পুরোনো দিনের সকল কষ্ট ভুলে গিয়ে নতুন করে প্রার্থনার মাধ্যমে শান্তি কামনা করে থাকি।
সন্ধ্যায় উখিয়ার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস (আকাশ বাতি) উড়ানো হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর বিভিন্ন বিহারে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু হয়।
সবাইকে মৈত্রীময় সহনশীলতা, বন্ধুত্বপূর্ণ চেতনাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উখিয়া সংঘরাজ ভিক্ষু সমিতির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতিঃ প্রজ্ঞা থের বলেন- সব হিংসা ভুলে সবার সঙ্গে মিলেমিশে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সবাই যেন অনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে বিরত রেখে জীবন যাপন করেন এই প্রত্যাশাও করেন তিনি। সবশেষে সুখে-শান্তিতে সবাই মিলে পৃথিবীতে যেন বসবাস করতে পারি সেই মঙ্গল কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি যুব উখিয়ার সভাপতি বিজন বড়ুয়া বলেন- বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এ প্রবারণা পূর্ণিমা। এদিন গৌতম বুদ্ধ ধর্ম প্রচার শুরু করেন। এ কারণে এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উখিয়া উপজেলার প্রায় ৫০টি বৌদ্ধ বিহারে একযোগে এ উৎসব পালন করেছে। তবে ফানুস উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তিন মাস বর্ষাবাস (ধ্যান) পালন করার পর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব পালন করে আসছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মীয় মতে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস। এর মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়।