নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় খায়ের কাসেম গ্রুপের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল থেকে অন্য একটি কোম্পানির পক্ষে অসীম সাহা, জাকারিয়াসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি বালু ভরাট করে ওই জমি দখলে নিয়ে নেয়। এসময় কোম্পানীর সাইনবোর্ড, সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় তারা। এ ঘটনায় খায়ের কাশেম সুগার রিফাইনারী লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির বাদি হয়ে শনিবার সকালে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয়।
সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় খায়ের কাশেম গ্রুপ সাড়ে ১০শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ দখলে রয়েছেন। শনিবার সকালে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ফ্রেশ সিরামিক লিমিডেট নামের একটি কোম্পানির পক্ষে ল্যান্ড বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক অসীম সাহা ও মো. জাকারিয়াসহ প্রায় দেড় শতার্ধিক মানুষ একত্রিত হয়ে সকাল ৮টার দিকে টিনের প্রাচীর ভেঙ্গে গাছপালা কেটে দখলের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খায়ের কাশেম গ্রুপের জায়গায় প্রবেশ করে সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে। পরে ফলোডার, ড্রামট্রাক নিয়ে ওই বিরোধপূর্ন জমিতে বালু ভরাট কাজ শুরু করে। এসময় বাঁধা দিতে গিয়ে খায়ের কাশেম সুগার রিফাইনারী লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবিরসহ ১০ নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
খায়ের কাশেম সুগার রিফাইনারী লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির জানান, তারা এ জমি ক্রয় করে ১৪ বছর ধরে ভোগ দখলে রয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে মেঘনা গ্রুপ। এসম্পত্তি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও সোনারগাঁ সহকারী জজ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা চলমান থাকার পরও আইনের তোয়াক্কা না করে তাদের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মেঘনা গ্রুপ।
মেঘনা গ্রুপের ল্যান্ড বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক অসীম সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
মেঘনা গ্রুপের ল্যান্ড বিভাগের অপর সহকারী ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন জানান, কাশেম খায়ের গ্রুপের সম্পত্তি তারা দখল করছেন না। তবে মেঘনা গ্রুপ তার নিজস্ব সম্পত্তিতে বালু ভরাট করছে। আদালতের মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খাঁন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বালু ভরাট কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষকে তাদের স্বপক্ষের দলিল পত্র নিয়ে থানায় আসার জন্য নোটিশ করা হয়েছে।























