উত্তরাঞ্চলে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বৈরী আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। অনেক এলাকায় বীজতলার চারা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও অঙ্কুর মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে বোরো মৌসুম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ জানায়, সাধারণত বীজতলার চারার বয়স ৪০ থেকে ৪৫ দিন হলে জমিতে রোপণ করা হয়। তবে অনেক এলাকায় চারা রোপণের আগেই শীত ও ঘন কুয়াশা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকেরা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, রাতে পানিতে ডুবিয়ে রাখা এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগের মতো নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছেন।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজদপা গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতালেব বলেন, “এক একর জমির জন্য চার কেজি বীজ দিয়ে বীজতলা করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। আর এক সপ্তাহ এমন থাকলে বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে যাবে।”
রংপুর নগরীর চিলমন এলাকার কৃষক গৌরাঙ্গ রায় জানান, এক দোন (২৪ শতক) জমির জন্য চারা কিনতে এখন ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হচ্ছে। বীজতলা নষ্ট হলে চারার দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
বিভিন্ন উপজেলায় দেখা গেছে, যারা আলু, সরিষা, গম ও তামাক উত্তোলনের পর বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা বীজতলা রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। অনেক কৃষক শুকনো বীজতলা তৈরি করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বৈরী আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশায় বীজতলার চারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পাঁচ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর।
রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সিরাজুল সিলাম বলেন, “বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, রাতে পানিতে ডুবিয়ে রাখা, সালফারযুক্ত ওষুধ স্প্রে করা এবং জিপসাম ও ইউরিয়া প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় গিয়ে বীজতলা সুরক্ষার বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।”
কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়ার উন্নতি না হলে চলতি বোরো মৌসুমে বড় ধরনের চারা সংকট দেখা দিতে পারে। এতে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
শু/সবা






















