ফটিকছড়ি উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলামের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বেতন-ভাতা নিয়ে বিরোধের জেরে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন সরকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাস্টার জসিম উদ্দীনের আগস্ট ২০২৪ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনুপস্থিতি দেখিয়ে বেতন স্থগিত রাখেন।
পরে মাস্টার জসিম ৯ মাসের বেতন তুলে নেন।
জসিম উদ্দীন দাবি করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি ‘মবের শিকার’ হওয়ায় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি এবং ওই সময়ের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের কাছে অনুরোধ জানান।
এ সময় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পাঁচ মাসের ছুটির কার্যকর সংক্রান্ত লিখিত কাগজপত্র দেখাতে বলেন। পরে তিনি সিটিটি ফাইল থেকে অনুপস্থিতির নথি বের করে দেখাতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা একেএম নজরুল ইসলাম বলেন, মাস্টার জসিম উদ্দীন জানতে চান, গেজেটেড কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকলে তারা বেতন-ভাতা পান কিনা। তখন আমি বলি, যথাযথভাবে ছুটি মঞ্জুর হলে তারা বেতন-ভাতা পেতে পারেন। কিন্তু আপনি যে পাঁচ মাস অনুপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন সরকার বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন।
আপনি যদি ছুটি মঞ্জুরির কাগজ নিয়ে আসেন, তাহলে আমি নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব। কিন্তু তিনি কোনো কথাই শুনতে চাননি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হলে আমি তাঁকে বেতন বন্ধের চিঠিটি দেখাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, বিষয়টি প্রায় সমাধানের পথে ছিল। এ সময় প্রধান শিক্ষক অফিসিয়াল ডকুমেন্টস নিয়ে চলে যেতে চাইলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাকে বাধা দেন। তখন তিনি ডকুমেন্টসটি হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, উভয় পক্ষই স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি প্রক্রিয়াগত ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি বুঝতে কিছুটা ভুল করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা মীমাংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন সরকার বদলি হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মাস্টার জসিম উদ্দীন।
শু/সবা
ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
























