১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব: নাহিদ ইসলাম

ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যেসব নারীর কণ্ঠস্বর হারিয়ে গেছে, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির উদ্যোগে “জাতীয় নারী শক্তি”র আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় একটি স্টেকহোল্ডার হচ্ছে নারীরা। তাই সারা দেশে আন্দোলনে অংশ নেওয়া যেসব নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গেছে, তাদের খুঁজে বের করা এবং তাদের মতামত শোনার দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, তারা রাজনীতি করুক বা না করুক—দেশ পরিবর্তনের মর্যাদা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাদের কণ্ঠ শোনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তা হলো—জুলাই আন্দোলনের সেই নারীরা এখন কোথায়। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেককে পরবর্তীতে রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার মতোভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর ফলে ছাত্র আন্দোলনের অনেক নারী রাজনীতি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সাইবার বুলিংয়ের তীব্রতার কারণে একজন নারী কর্মী নির্বাচনের আগে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর-এর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ভয়াবহভাবে অনলাইনে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, যে কোনো নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে যায়। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকেই সমাজে এ ধরনের অপরাধ বাড়ে।

তিনি বলেন, “দল-মত যেই হোক না কেন, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারসহ এনসিপির নেত্রী নুসরাত, ঝুমা, জায়মা ও মনিরা শারমিন।

অনুষ্ঠান শেষে “জাতীয় নারী শক্তি”র আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদ আলম মিতু এবং আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন-এর নাম ঘোষণা করা হয়।

শু/সবা

কক্সবাজারে রাখাইন নারী ফোরামের আয়োজনে নারী দিবস পালিত

জুলাইয়ের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যেসব নারীর কণ্ঠস্বর হারিয়ে গেছে, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির উদ্যোগে “জাতীয় নারী শক্তি”র আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় একটি স্টেকহোল্ডার হচ্ছে নারীরা। তাই সারা দেশে আন্দোলনে অংশ নেওয়া যেসব নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গেছে, তাদের খুঁজে বের করা এবং তাদের মতামত শোনার দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, তারা রাজনীতি করুক বা না করুক—দেশ পরিবর্তনের মর্যাদা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাদের কণ্ঠ শোনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তা হলো—জুলাই আন্দোলনের সেই নারীরা এখন কোথায়। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেককে পরবর্তীতে রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার মতোভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর ফলে ছাত্র আন্দোলনের অনেক নারী রাজনীতি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সাইবার বুলিংয়ের তীব্রতার কারণে একজন নারী কর্মী নির্বাচনের আগে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর-এর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ভয়াবহভাবে অনলাইনে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, যে কোনো নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে যায়। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকেই সমাজে এ ধরনের অপরাধ বাড়ে।

তিনি বলেন, “দল-মত যেই হোক না কেন, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারসহ এনসিপির নেত্রী নুসরাত, ঝুমা, জায়মা ও মনিরা শারমিন।

অনুষ্ঠান শেষে “জাতীয় নারী শক্তি”র আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদ আলম মিতু এবং আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন-এর নাম ঘোষণা করা হয়।

শু/সবা