তুরস্ক-এ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিযোগে আটক এক তুর্কি-ইসরায়েলি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকারের হস্তক্ষেপে মুক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেসিকা বাশার নামে ওই নারী ১৭ বছর বয়সে ইসরায়েলে অভিবাসন করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে ইস্তাম্বুল গেলে তাকে তুর্কি পুলিশ আটক করে। প্রো-প্যালেস্টাইনপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত সন্দেহভাজন তুর্কি নাগরিকদের চিহ্নিত করার যে প্রচারণা চালাচ্ছে, তার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তার গ্রেপ্তারের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার কূটনৈতিকভাবে তুরস্কের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাও নিশ্চিত করেন। পরে এক ধরনের গোপন অভিযানের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়।
‘ডিক্লাসিফায়েড ইউকে’–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে ১১২ জন তুর্কি-ইসরায়েলি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। তুরস্কের আইনে সরকারি অনুমতি ছাড়া বিদেশি সেনাবাহিনীতে কাজ করলে এক থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এই ঘটনাটি সামনে আনে ‘ফ্রিডম ওয়াচ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম, যারা বাশারকে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করে সামাজিক মাধ্যমে তার সামরিক পোশাকের ছবি প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের বিদ্যমান টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ২০১০ সালের মাভি মারমারা হামলা-র পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যদিও ২০২৩ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা হয়েছিল, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র বৈঠকের মাধ্যমে সেই উদ্যোগ শুরু হয়, কিন্তু পরবর্তীতে গাজা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তা ভেস্তে যায়।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

















