ফাঁড়ি আছে নেই পুলিশ, নিরাপত্তাহীনতায় ববি শিক্ষার্থীরা » দৈনিক সবুজ বাংলা
১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফাঁড়ি আছে নেই পুলিশ, নিরাপত্তাহীনতায় ববি শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ সদস্য না থাকায় ফাঁড়িটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন ঢাকা-ভোলা মহাসড়কে এই ফাঁড়িটি অবস্থিত হলেও নেই কোনো পুলিশ সদস্যের নিয়মিত টহল ও তদারকি। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
২৪ সালে ৫ আগস্টের পটভূমি পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িটির নেই কোনো পুলিশ সদস্য।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,’ক্যাম্পে পুলিশ সদস্য না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগত লোকজনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে পুলিশের অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন,”৫ই আগস্টের পর থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো পুলিশ সদস্য নেই, যেটা খুবই উদ্বেগের। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কনসার্ট কিংবা প্রোগ্রামে বাহিরের লোক ক্যাম্পাসে আসে,  ঝামেলা বাজালে কিংবা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভ্যন্তরে কোনো ঝামেলা বাজলে, এবং রাতে শিক্ষার্থীরা যে-কোনো সমস্যায় পড়লে তখন প্রয়োজন পড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর। তখন উক্ত পরিস্থিতিতে সামাল দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। যা পরিস্থিতিতে আরো ঘোলাটে করতে পারে। আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা উচিত।”
বর্তমানে পুলিশ ফাঁড়িটিতে পুলিশ না থাকায় বুধবার রাত (১২ মার্চ) ২টা ৪৫মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট (ঢাকা-ভোলা মহাসড়ক) থেকে ৭জন শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে উঠিয়ে নিয়ে যায়, পরবর্তীতে প্রায় ভোর ৪টার দিকে তাদের কে ছেড়ে দেয়।
ভুক্তভোগীর শিক্ষার্থীরা জানান,” তারা কোনো কারণ ছাড়ায় আমাদের তুলে নিয়ে যায়। পরিবর্তনে আমাদের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে ও তুই-তোকারি করে। এক পর্যায় লাঠি বের করে মারার জন্য তেড়ে আসে। আমরা আইডি কার্ড দেখানোর পরও তারা বিশ্বাস করেনি।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন,” তারা আমাদের জিরো পয়েন্ট (লাহারহাট যাওয়ার রাস্তায়) ভোর ৪টার দিকে ছেড়ে দেই। তখন আমরা একটা ভ্যান গাড়িতে উঠতে ছেয়ে ছিলাম,কিন্ত তারা বলে ‘ হেঁটে হেঁটে যাবি তোরা’, এবিষয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা খুব শঙ্কিত।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসান মাহবুব বলেন,” বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলে শিক্ষার্থীরা এরকম হয়রানির শিকার হতো না। সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। তারা আমাদের বলে, রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কী কাজ। আমি বলেছিলাম, হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় বাহিরে খেতে বের হয়েছিলাম। এবং তাদের সকল প্রশ্নের জবাব ও তথ্য প্রমাণ দেওয়ার পর তারা তা মানতে চাইনি।”
এবিষয় ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আব্দুল গণি বলেন,”রাত দুইটার সময় তারা বাহিরে ছিল। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এখন বাহিরে কি। তারা বলেছে চা খেতে বের হয়েছে। কিন্তু তখন কোনো দোকান খোলা ছিল। তাদের কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আইডি কার্ড দেখাতে পেরেছে। তাদের বলা হয়েছে রুমে চলে যেতে তারা না গিয়ে আরো একটু দূরে আরেকটা দোকানে গিয়ে বসেছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে তাদের তুলে আনা হয়েছিল। পরিবারের কাছে ফোন করা হয়েছে। তবে তাদের গায়ে কোনে লাঠি চার্জ করা হয়নি।”
পুলিশ ফাঁড়ি বিষয় জানতে প্রক্টর কে গত বৃহস্পতিবার ওয়াটসাপে একাদিক কল ও ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ কারা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি গত বছর ২১সেপ্টেম্বরে বলছিলেন “আমরা এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছি, যেন আমাদের ক্যাম্পাসে ফোর্স দেওয়া হয়। ওই সময় ফোর্স সংকটের কারণে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আমরা আবারও অনুরোধ করব এবং পুনরায় চিঠি দেব। আশা করি খুব  দ্রুত  এই সমস্যার সমাধান হবে।”
তবে এখনও পর্যন্ত প্রক্টরের চিঠিটির আশার মুখ দেখেনি।
শু/সবা
জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে পাস ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বিল-২০২৬

ফাঁড়ি আছে নেই পুলিশ, নিরাপত্তাহীনতায় ববি শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৩:০২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ সদস্য না থাকায় ফাঁড়িটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন ঢাকা-ভোলা মহাসড়কে এই ফাঁড়িটি অবস্থিত হলেও নেই কোনো পুলিশ সদস্যের নিয়মিত টহল ও তদারকি। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
২৪ সালে ৫ আগস্টের পটভূমি পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িটির নেই কোনো পুলিশ সদস্য।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,’ক্যাম্পে পুলিশ সদস্য না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগত লোকজনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে পুলিশের অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন,”৫ই আগস্টের পর থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো পুলিশ সদস্য নেই, যেটা খুবই উদ্বেগের। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কনসার্ট কিংবা প্রোগ্রামে বাহিরের লোক ক্যাম্পাসে আসে,  ঝামেলা বাজালে কিংবা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভ্যন্তরে কোনো ঝামেলা বাজলে, এবং রাতে শিক্ষার্থীরা যে-কোনো সমস্যায় পড়লে তখন প্রয়োজন পড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর। তখন উক্ত পরিস্থিতিতে সামাল দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। যা পরিস্থিতিতে আরো ঘোলাটে করতে পারে। আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা উচিত।”
বর্তমানে পুলিশ ফাঁড়িটিতে পুলিশ না থাকায় বুধবার রাত (১২ মার্চ) ২টা ৪৫মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট (ঢাকা-ভোলা মহাসড়ক) থেকে ৭জন শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে উঠিয়ে নিয়ে যায়, পরবর্তীতে প্রায় ভোর ৪টার দিকে তাদের কে ছেড়ে দেয়।
ভুক্তভোগীর শিক্ষার্থীরা জানান,” তারা কোনো কারণ ছাড়ায় আমাদের তুলে নিয়ে যায়। পরিবর্তনে আমাদের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে ও তুই-তোকারি করে। এক পর্যায় লাঠি বের করে মারার জন্য তেড়ে আসে। আমরা আইডি কার্ড দেখানোর পরও তারা বিশ্বাস করেনি।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন,” তারা আমাদের জিরো পয়েন্ট (লাহারহাট যাওয়ার রাস্তায়) ভোর ৪টার দিকে ছেড়ে দেই। তখন আমরা একটা ভ্যান গাড়িতে উঠতে ছেয়ে ছিলাম,কিন্ত তারা বলে ‘ হেঁটে হেঁটে যাবি তোরা’, এবিষয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা খুব শঙ্কিত।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসান মাহবুব বলেন,” বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলে শিক্ষার্থীরা এরকম হয়রানির শিকার হতো না। সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। তারা আমাদের বলে, রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কী কাজ। আমি বলেছিলাম, হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় বাহিরে খেতে বের হয়েছিলাম। এবং তাদের সকল প্রশ্নের জবাব ও তথ্য প্রমাণ দেওয়ার পর তারা তা মানতে চাইনি।”
এবিষয় ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আব্দুল গণি বলেন,”রাত দুইটার সময় তারা বাহিরে ছিল। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এখন বাহিরে কি। তারা বলেছে চা খেতে বের হয়েছে। কিন্তু তখন কোনো দোকান খোলা ছিল। তাদের কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আইডি কার্ড দেখাতে পেরেছে। তাদের বলা হয়েছে রুমে চলে যেতে তারা না গিয়ে আরো একটু দূরে আরেকটা দোকানে গিয়ে বসেছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে তাদের তুলে আনা হয়েছিল। পরিবারের কাছে ফোন করা হয়েছে। তবে তাদের গায়ে কোনে লাঠি চার্জ করা হয়নি।”
পুলিশ ফাঁড়ি বিষয় জানতে প্রক্টর কে গত বৃহস্পতিবার ওয়াটসাপে একাদিক কল ও ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ কারা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি গত বছর ২১সেপ্টেম্বরে বলছিলেন “আমরা এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছি, যেন আমাদের ক্যাম্পাসে ফোর্স দেওয়া হয়। ওই সময় ফোর্স সংকটের কারণে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আমরা আবারও অনুরোধ করব এবং পুনরায় চিঠি দেব। আশা করি খুব  দ্রুত  এই সমস্যার সমাধান হবে।”
তবে এখনও পর্যন্ত প্রক্টরের চিঠিটির আশার মুখ দেখেনি।
শু/সবা