2:44 pm, Saturday, 2 May 2026

নীলফামারীতে কালোবাজারে বেশী দামে তেল বিক্রি, দেখার কেউ নাই

প্রায় এক মাস থেকে নীলফামারীর ৩৮টি পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় যান চালক ও বাইকারদের মধ্যে হাহাকার চলছে।
‎তবে কিছু পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ১০০-২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ মোটরসাইকেল চালকদের। জেলা শহরের এ পাম্প ও পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না। যেন তেলের আকাল পড়েছে।
‎এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তা পাম্পের মালিক জানান, ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের সংখ্যা অনেক বেশী। ফলে সেচ পাম্প গুলো তেল সংকট পড়বে না। তুলনামুলকভাবে পেট্রোল ও অকটেনের চেয়ে ডিজেল সরবারহ স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, জেলায় ৩৮ টি তেল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী সদরে ১০টি। তবে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার তুলনায় অনেক কম মিলছে।
‎সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পই বন্ধ। যখনই কোন পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে তখনই সে সকল পাম্পে হাজার হাজার মোটর সাইকেলের জট লেগে যাচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করছে গ্রাহকরা। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই তেল নিতে পারছেনা। বিশেষ করে কর্মজীবি মহিলা বাইকারা তেলের অভাবে বিপাকে পড়েছে। এতে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা ও জবাব দিহি করতে হচ্ছে কতৃপক্ষকে।
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাইকার জানান, পাম্প মালিকদে সাথে যোগসাজোস করে একটি বিশেষ শ্রেনী কালোবাজারে বেশী দামে তেল বিক্রি করছে। যারা এ পাম্প সে পাম্প ঘুরে প্রচুর তেল সংগ্রহ করে দ্বি-গুন তিনগুন দামে খোলা বাজারে বিক্রি করছেন। যেন দেখার কেউ নাই।
‎এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন সকল পাম্পে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বিকাল ৩ টা হতে তেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এক যোগে তেল বিক্রি ও যানবাহন মার্কিং শুরু করবেন। এতে সংকট কিছুটা কমবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
‎বৃহষ্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা শহরের মুক্তা ফিলিং স্টেশের স্বত্বাধিকারী মাহমুদ চৌধুরী নবাব বলেন, ডিপোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তেলের জন্য পাম্পে এসে ভীড় করছেন। যেখানে ১০-১২ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে, মাত্র ২ হাজার লিটার। তা দিয়ে মোটেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। বরং নানাবিধ সমস্যা তৈরী হচ্ছে।
‎পাম্প মালিক এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক বলেন, আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। ডিপো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দৈনিক ১০-১৫ হাজার লিটার পেট্রোলের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার লিটার। অনেক পাম্পে আক্রমনের শিকার হচ্ছেন মালিকরা।
‎এ ব্যাপারে, জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান জানান, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সমস্যা সমাধানে পাম্প মালিকদের সাথে মিটিং করে আমরা সকল পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি শুরু করব, তাহলে একই ব্যক্তি একাধিক জায়গায় তেল নিতে পারবে না। এতে করে বেশী গাড়ীতে তেল দেয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন। আশা করি, এই সংকট বেশীদিন থাকবে না।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 × 5 =

About Author Information

Popular Post

ইরানি ড্রোন ঠেকাতে আরব আমিরাতে লেজার সিস্টেম পাঠিয়েছিল ইসরায়েল

নীলফামারীতে কালোবাজারে বেশী দামে তেল বিক্রি, দেখার কেউ নাই

Update Time : ০৭:১২:২৮ pm, Thursday, ২ এপ্রিল ২০২৬
প্রায় এক মাস থেকে নীলফামারীর ৩৮টি পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় যান চালক ও বাইকারদের মধ্যে হাহাকার চলছে।
‎তবে কিছু পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ১০০-২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ মোটরসাইকেল চালকদের। জেলা শহরের এ পাম্প ও পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না। যেন তেলের আকাল পড়েছে।
‎এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তা পাম্পের মালিক জানান, ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের সংখ্যা অনেক বেশী। ফলে সেচ পাম্প গুলো তেল সংকট পড়বে না। তুলনামুলকভাবে পেট্রোল ও অকটেনের চেয়ে ডিজেল সরবারহ স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, জেলায় ৩৮ টি তেল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী সদরে ১০টি। তবে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার তুলনায় অনেক কম মিলছে।
‎সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পই বন্ধ। যখনই কোন পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে তখনই সে সকল পাম্পে হাজার হাজার মোটর সাইকেলের জট লেগে যাচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করছে গ্রাহকরা। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই তেল নিতে পারছেনা। বিশেষ করে কর্মজীবি মহিলা বাইকারা তেলের অভাবে বিপাকে পড়েছে। এতে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা ও জবাব দিহি করতে হচ্ছে কতৃপক্ষকে।
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাইকার জানান, পাম্প মালিকদে সাথে যোগসাজোস করে একটি বিশেষ শ্রেনী কালোবাজারে বেশী দামে তেল বিক্রি করছে। যারা এ পাম্প সে পাম্প ঘুরে প্রচুর তেল সংগ্রহ করে দ্বি-গুন তিনগুন দামে খোলা বাজারে বিক্রি করছেন। যেন দেখার কেউ নাই।
‎এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন সকল পাম্পে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বিকাল ৩ টা হতে তেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এক যোগে তেল বিক্রি ও যানবাহন মার্কিং শুরু করবেন। এতে সংকট কিছুটা কমবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
‎বৃহষ্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা শহরের মুক্তা ফিলিং স্টেশের স্বত্বাধিকারী মাহমুদ চৌধুরী নবাব বলেন, ডিপোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তেলের জন্য পাম্পে এসে ভীড় করছেন। যেখানে ১০-১২ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে, মাত্র ২ হাজার লিটার। তা দিয়ে মোটেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। বরং নানাবিধ সমস্যা তৈরী হচ্ছে।
‎পাম্প মালিক এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক বলেন, আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। ডিপো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দৈনিক ১০-১৫ হাজার লিটার পেট্রোলের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার লিটার। অনেক পাম্পে আক্রমনের শিকার হচ্ছেন মালিকরা।
‎এ ব্যাপারে, জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান জানান, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সমস্যা সমাধানে পাম্প মালিকদের সাথে মিটিং করে আমরা সকল পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি শুরু করব, তাহলে একই ব্যক্তি একাধিক জায়গায় তেল নিতে পারবে না। এতে করে বেশী গাড়ীতে তেল দেয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন। আশা করি, এই সংকট বেশীদিন থাকবে না।
শু/সবা