রংপুর বিভাগে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭ জনের শরীরে হাম ও ৪ জনের রুবেলা নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া ১১৬ জন শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দিনাজপুরে ৩ জন এবং পঞ্চগড়ে ৪ জন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে।
গত ৩০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে রংপুর বিভাগের আট জেলায় মোট ৯৩ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৩ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, আর বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩০ জন। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ১১ জন ভর্তি রয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে মোট ১১৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ২৫ জন, গাইবান্ধায় ২১ জন এবং রংপুর জেলায় ১৯ জন রয়েছে। এছাড়া নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটেও রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই দুই বছরের কম বয়সী শিশু। হামের সংক্রমণ রোধে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন কর্নার চালু করা হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর শিশু বিভাগে শয্যার তুলনায় দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংক্রমণ এড়াতে একটি কক্ষকে আইসোলেশন হিসেবে ব্যবহার করা হলেও রোগীর চাপ বাড়ায় নতুন করে আরও একটি কক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হবে না।
শু/সবা
রংপুর ব্যুরো: 














