নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মুহিববুল্লাহর বদলির আদেশ আসার পরও দায়িত্ব ছাড়ছেন না। বদলির পর এখনো তিনি সোনারগাঁ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফলে সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত ওসি গোলাম সারোয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মুহিববুল্লাহকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ অফিস কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ হিসেবে বদলি করেন। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ অফিস কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ পরিদর্শক গোলাম সারোয়ারকে সোনারগাঁ থানার স্থলাভিষিক্ত করেন। এই দুই কর্মকর্তা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থালে জরুরী ভিত্তিতে যোগদান করে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। অফিস আদেশের অনুলিপি ২০টি দপ্তরেও প্রেরণ করা হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ১লা মে শুক্রবার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তাকে বদলির নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। বদলির আদেশের পর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও (৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত) তিনি দায়িত্ব ছাড়েননি এবং বর্তমান কর্মস্থল সোনারগাঁয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ওসি মো.মুহিববুল্লাহকে বদলি করা হলেও বর্তমানে তিনি সোনারগাঁ থানায় বহাল থাকার জন্য তার বদলি ঠেকাতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে স্থানীয় সাংসদের বিভিন্ন সুপারিশের জন্যও ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। এছাড়াও কতিপয় বিশেষ পেশার লোকজনকে থানায় ডেকে নিয়ে তার পক্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। ওসি মুহিববুল্লাহর এমন কর্মকান্ডে থানার বিভিন্ন কাজকর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার সোনারগাঁ থানায় যোগদানের অপেক্ষায় থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে পাননি। ফলে থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো বর্তমান ওসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী বদলির আদেশ পাওয়ার পর দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও, এখনো পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি ও প্রশ্ন উঠেছে। এখনো বর্তমান ওসির তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হচ্ছে। যা নিয়ে পুরো সোনারগাঁ জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
পুলিশের বিশস্ত সূত্রে জানা যায়, ওসি মুহিববুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে মাদক দ্রব্য উদ্ধার ও মহাসড়কে ডাকাতি ছিনতাই নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছেন। মাদক নির্মূল ও ডাকাতি ছিনতাই নিয়ন্ত্রনে দোহাই দিয়ে তিনি পূনরায় থানায় বহাল থাকাতে গোপনে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা মনে করেন,ওসি হিসেবে যিনি দায়িত্ব গ্রহন করবেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত থাকবে। এসব কর্মকান্ড স্বাভাবিক বিষয়।
এদিকে সুত্র জানায়, নতুন ওসি গোলাম সারোয়ার গত শুক্রবার সোনারগাঁ থানায় দায়িত্ব গ্রহনের জন্য থানায় আসতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করেন ওসি মুহিববুল্লাহ ।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের আগে ও পরে প্রভাবশালী ওসি হিসেবে পরিচিত ওসি মুহিববুল্লাহ সোনারগাঁ থানায় বহাল থাকতে জোর লবিং করছেন। ওসির দায়িত্ব পালনকালে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়ে যায়। মাদক নিয়ন্ত্রনের দোহাই দিয়ে তিনি পূনরায় দায়িত্ব পালন করলে সোনারগাঁয়ের মানুষের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে বলে মনে করেন তারা।
এ ব্যাপারে ওসি মহিববুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বদলি হয়েছে সত্য। তবে কবে দায়িত্ব ছাড়তে হবে সেটা লিখা নাই। কিছু কাজ কর্ম রয়েছে। সেগুলো গুছিয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হবে। তবে লবিংয়ের বিষয়টি সত্য নয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, ওসি মুহিববুল্লাহর ছেলে চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এ কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য তিনি কিছুদিন সময় চেয়েছেন।
শু/সবা
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ- 
























