গাইবান্ধায় ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে নির্মাণ শেষ হওয়ার দুই বছর পরও চালু করা যায়নি দুটি নতুন সেতু। সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু দুটি অব্যবহৃত পড়ে আছে। অন্যদিকে পুরোনো সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে গাইবান্ধা জেলা শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর পুরোনো সেতুর পাশে ৭৬ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘ঘাঘট-২’ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে।
অন্যদিকে গাইবান্ধা-বালাশীঘাট সড়কের পুলবন্দি এলাকায় পুরোনো সরু সেতুর বিকল্প হিসেবে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ ‘আলাই সেতু’র নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২ নভেম্বর। এ সেতুর কাজও শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে।
কিন্তু নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতু দুটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে শহরের দুই প্রবেশপথেই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হলেও জনগণ কোনো সুফল পাচ্ছে না। নতুন ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মিঠুন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ শেষ হলেও তা চালু করা হচ্ছে না। রাতে এসব সেতু মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
পুলবন্দি এলাকার শাহরিয়ার রবিন বলেন, নতুন সেতু ব্যবহার না হওয়ায় একদিকে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষকে এখনো পুরোনো সরু সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই তা চালুর চেষ্টা চলছে। তবে সংযোগ সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কাজ আটকে আছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্পের আওতায় জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগ প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই দুটি সেতু নির্মাণ করে।
শু/সবা
রংপুর ব্যুরো: 





















