11:53 pm, Sunday, 7 June 2026

রকারের ১০০ দিনে বেড়েছে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ১১৮৫ ঘটনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে মোট ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৯০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩ হাজার ৪৯৬টি।

এ ছাড়া দুই মাসে ৭৮ থেকে ১০২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ছিল ৪৯ থেকে ৭১ জন। গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬৯ থেকে ৮০টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১ থেকে ৪২ জন এবং আহত হয়েছেন ৭০ থেকে ১২৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সময়ে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ থেকে ১৮ জনের। বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন একজন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাতজন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির জ্যেষ্ঠ গবেষক জুলকারনাইন। তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বাড়লেও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি। ফলে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ঢাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের প্রায় ৪০ শতাংশই কিশোর। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মাজার, বাউল সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে প্রতিবেদনে সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিশোর গ্যাং, মাদক, অনলাইন জুয়া, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সাইবার অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতির উন্নয়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে টিআইবি।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eleven + 1 =

About Author Information

মতিঝিলে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

রকারের ১০০ দিনে বেড়েছে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ১১৮৫ ঘটনা

Update Time : ০৪:১০:৩৪ pm, Sunday, ৭ জুন ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে মোট ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৯০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩ হাজার ৪৯৬টি।

এ ছাড়া দুই মাসে ৭৮ থেকে ১০২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ছিল ৪৯ থেকে ৭১ জন। গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬৯ থেকে ৮০টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১ থেকে ৪২ জন এবং আহত হয়েছেন ৭০ থেকে ১২৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সময়ে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ থেকে ১৮ জনের। বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন একজন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাতজন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির জ্যেষ্ঠ গবেষক জুলকারনাইন। তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বাড়লেও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি। ফলে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ঢাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের প্রায় ৪০ শতাংশই কিশোর। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মাজার, বাউল সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে প্রতিবেদনে সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিশোর গ্যাং, মাদক, অনলাইন জুয়া, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সাইবার অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতির উন্নয়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে টিআইবি।

শু/সবা