রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডকে জাতির জন্য গভীর দুঃখ ও বেদনার ঘটনা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনায় সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে কোনোভাবেই রামিসাকে তার পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করেছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসামিদের জন্যও আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল, যাতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
তিনি দাবি করেন, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এমন একটি নৃশংস ঘটনার বিচার সম্পন্ন হওয়া দেশের বিচারিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি উপমহাদেশের ১৮৮২ সালে নদীয়ায় একদিনে একটি হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ার উদাহরণও উল্লেখ করেন।
রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার আপাতত এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে আশা করছে। আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানো হবে। এরপর পেপারবুক প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও জানান, আছিয়া, রাজন, রাকিব ও রামিসার মতো আলোচিত মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সরকারও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে অন্য একজনকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া সঠিক পথেই এগিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ নির্মূলের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ যদি মামলাটিকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শুনানি করে, তাহলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই রায় কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।
সবুজ বাংলা অনলাইন 





















