9:56 pm, Saturday, 4 July 2026

খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করায় হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি থাকার আশংকা

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা এলাকায় খুলখুলি ব্রীজের উজানে কংক্রিটের বাঁধ দিয়ে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ায় হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি থাকার আশংকা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডোমার চিলাহাটি সড়কের পাশ দিয়ে কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন হয়ে জোড়াবাড়ী এবং বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত খালটি অনেকটাই বেদখল হয়ে গেছে। খালটির পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দুর করতে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাসনের জন্য খালের উপর বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন থেকে জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পর্যন্ত সরকারি ভাবে কয়েকটি ব্রীজ, কালভার্ট তৈরী করা হয়েছে। খালটির প্রবাহিত পানি ডোমার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শালকী নদীতে মিলিত হয়েছে।
বর্তমানে খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ করে অনেকে ছোট ছোট বাঁধ নির্মাণ করে জমি চাষাবাদ করছে। বিশেষ করে বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা গ্রামের খুলখুলি ব্রীজের প্রায় ৩ শত ফিট উজানে কংক্রিটের সিমেন্ট, ইট, বালু দিয়ে পানি প্রবাহের মুল জায়গাটি বন্ধ করে দেয়ায় উজানে কয়েক হাজার একর জমি অনাবাদি থাকার আশংকা করা হচ্ছে। ওই এলাকার বাসিন্দা আওয়ামীলীগের প্রয়াত হুইপ আব্দুর রউফের ভাতিজা মাহবুব হোসেন মেম্বার খালের পাশ দিয়ে তার জমি ভরাট করে সেখানে একটি লটকনের বাগান তৈরী করেছেন। সেই সাথে খালের পানি নিষ্কাসনের মুল প্রবাহটি কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে সেখানে মাছ ধরার ফাঁদ (জান) বসিয়েছেন। এতে উজানের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে উজানে হাজার হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ভরা বর্ষা চললেও জমিগুলোতে কেউ চাষাবাদ করতে পারছে না। বাকডোকরা গ্রামের বাসিন্দা মমিনুর ইসলাম তিনিও তার জমিনের চার দিকে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এখানে আমার ১৫/১৬বিঘা জমি রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় জমিগুলোতে আবাদ হচ্ছে না। তাই বাঁধ নির্মাণ করে জমি চাষাবাদ করছি। একই এলাকার বুলু ইসলাম জানান, পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় আমার প্রায় ৩০বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জমিনে চাষ দিতে পারছি না। এছাড়া আমার ৪টি পুকুরের মাছ বেড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলাকার অনেকে জানান, মাহবুব মেম্বার এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায়না। ফলে তার খেয়াল খুশি মত বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করেছেন। বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তম্বী জানান, খাল খননে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এভাবে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না। বিষয়টি আমি দেখতেছি।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

three × 3 =

About Author Information

Popular Post

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করায় হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি থাকার আশংকা

Update Time : ০৫:১৪:৩৩ pm, Saturday, ৪ জুলাই ২০২৬
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা এলাকায় খুলখুলি ব্রীজের উজানে কংক্রিটের বাঁধ দিয়ে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ায় হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি থাকার আশংকা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডোমার চিলাহাটি সড়কের পাশ দিয়ে কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন হয়ে জোড়াবাড়ী এবং বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত খালটি অনেকটাই বেদখল হয়ে গেছে। খালটির পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দুর করতে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাসনের জন্য খালের উপর বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন থেকে জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পর্যন্ত সরকারি ভাবে কয়েকটি ব্রীজ, কালভার্ট তৈরী করা হয়েছে। খালটির প্রবাহিত পানি ডোমার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শালকী নদীতে মিলিত হয়েছে।
বর্তমানে খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ করে অনেকে ছোট ছোট বাঁধ নির্মাণ করে জমি চাষাবাদ করছে। বিশেষ করে বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা গ্রামের খুলখুলি ব্রীজের প্রায় ৩ শত ফিট উজানে কংক্রিটের সিমেন্ট, ইট, বালু দিয়ে পানি প্রবাহের মুল জায়গাটি বন্ধ করে দেয়ায় উজানে কয়েক হাজার একর জমি অনাবাদি থাকার আশংকা করা হচ্ছে। ওই এলাকার বাসিন্দা আওয়ামীলীগের প্রয়াত হুইপ আব্দুর রউফের ভাতিজা মাহবুব হোসেন মেম্বার খালের পাশ দিয়ে তার জমি ভরাট করে সেখানে একটি লটকনের বাগান তৈরী করেছেন। সেই সাথে খালের পানি নিষ্কাসনের মুল প্রবাহটি কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে সেখানে মাছ ধরার ফাঁদ (জান) বসিয়েছেন। এতে উজানের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে উজানে হাজার হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ভরা বর্ষা চললেও জমিগুলোতে কেউ চাষাবাদ করতে পারছে না। বাকডোকরা গ্রামের বাসিন্দা মমিনুর ইসলাম তিনিও তার জমিনের চার দিকে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এখানে আমার ১৫/১৬বিঘা জমি রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় জমিগুলোতে আবাদ হচ্ছে না। তাই বাঁধ নির্মাণ করে জমি চাষাবাদ করছি। একই এলাকার বুলু ইসলাম জানান, পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় আমার প্রায় ৩০বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জমিনে চাষ দিতে পারছি না। এছাড়া আমার ৪টি পুকুরের মাছ বেড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলাকার অনেকে জানান, মাহবুব মেম্বার এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায়না। ফলে তার খেয়াল খুশি মত বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করেছেন। বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তম্বী জানান, খাল খননে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এভাবে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না। বিষয়টি আমি দেখতেছি।
শু/সবা