8:40 pm, Thursday, 2 July 2026

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের অনুরোধেই এসেছি: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

ঢাকার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরাঞ্চলের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীন সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে চীনের বিবেচনায় অন্য কোনো বিষয় নেই।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বারিধারায় চীনা দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। নদীটির সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের অনুরোধের ভিত্তিতেই চীন এ প্রকল্পে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাসাধ্য সহায়তা করবে।

এর আগে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ তুলে ধরলে তিনি বলেন, আগের সমঝোতা হয়েছিল চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি সংস্থার। তবে এখন সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, চীনা কোম্পানি নিজস্ব সমীক্ষা করতে পারে, তবে সরকারিভাবে চীন তাদের সেরা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষা পরিচালনা করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সমীক্ষা অপরিহার্য এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ভারতের উদ্বেগ কিংবা উজান থেকে পানি না ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, এসব বিষয় চীনের বিবেচনার অংশ নয়। বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী চীন সহযোগিতা করছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে নিয়ে সম্ভাব্য ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। প্রায় ১৫ বছর আগে বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার) উদ্যোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যদিও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি, তবে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে চীন এখনো আগ্রহী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু আঞ্চলিক সংযুক্তি চায়, চীনও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মিয়ানমারও এ ধরনের সহযোগিতায় আগ্রহী বলে তাদের ধারণা।

অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দেশ যুক্ত হতে চাইলে চীন খোলামন নিয়ে তা বিবেচনা করবে। তবে আপাতত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে অর্থনৈতিক করিডর এগিয়ে নিতে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে স্থলপথে করিডর বাস্তবায়নের জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বন্দর ও সমুদ্রপথভিত্তিক সংযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

two × 1 =

About Author Information

Popular Post

খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের অনুরোধেই এসেছি: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

Update Time : ০৫:৫৯:০৫ pm, Thursday, ২ জুলাই ২০২৬

ঢাকার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরাঞ্চলের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীন সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে চীনের বিবেচনায় অন্য কোনো বিষয় নেই।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বারিধারায় চীনা দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। নদীটির সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের অনুরোধের ভিত্তিতেই চীন এ প্রকল্পে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাসাধ্য সহায়তা করবে।

এর আগে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ তুলে ধরলে তিনি বলেন, আগের সমঝোতা হয়েছিল চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি সংস্থার। তবে এখন সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, চীনা কোম্পানি নিজস্ব সমীক্ষা করতে পারে, তবে সরকারিভাবে চীন তাদের সেরা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষা পরিচালনা করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সমীক্ষা অপরিহার্য এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ভারতের উদ্বেগ কিংবা উজান থেকে পানি না ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, এসব বিষয় চীনের বিবেচনার অংশ নয়। বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী চীন সহযোগিতা করছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে নিয়ে সম্ভাব্য ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। প্রায় ১৫ বছর আগে বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার) উদ্যোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যদিও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি, তবে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে চীন এখনো আগ্রহী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু আঞ্চলিক সংযুক্তি চায়, চীনও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মিয়ানমারও এ ধরনের সহযোগিতায় আগ্রহী বলে তাদের ধারণা।

অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দেশ যুক্ত হতে চাইলে চীন খোলামন নিয়ে তা বিবেচনা করবে। তবে আপাতত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে অর্থনৈতিক করিডর এগিয়ে নিতে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে স্থলপথে করিডর বাস্তবায়নের জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বন্দর ও সমুদ্রপথভিত্তিক সংযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

শু/সবা