০৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্যাথলজি টেস্টসহ বিভিন্ন রোগীর প্রেসক্রিপশন লিখেন দালালরা

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার (প্যাথলজি টেস্ট) নাম লিখে দিচ্ছে দালালেরা। পরে পছন্দের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করে চলছে তাদের এই প্রতারণা।
বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামের আয়াতুন্নেছা (৬৫) জানান, সম্প্রতি তিনি বহির্বিভাগ থেকে ১০ টাকার টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়ে যান। চিকিৎসকের কথামতো পরের সপ্তাহে ফের হাসপাতালে আসেন। বহির্বিভাগে এক চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গেলে এক যুবক তার কাছে এসে জানতে চান ডাক্তার দেখাবেন কি না।
তিনি হ্যা বলার সাথে সাথে হাতে থাকা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে পাশের একটি কক্ষে যায় ওই যুবক। ফিরে এসেই বলে এই পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলো করিয়ে আনেন।
তখন তিনি বলেন, ডাক্তার তাকে পরীক্ষার ব্যাপারে কিছু বলেননি। ওই যুবক তাকে বলে এখানে কয়েকটি পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়া আছে। এগুলো না করালে ডাক্তার পরবর্তী চিকিৎসা দেবে না। আমার সাথে চলেন। কম টাকাতে পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করবো।
তিনি ওই যুবকের সাথে হাসপাতালের সামনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। তাকে সেখানে রেখেই ওই যুবক চলে আসে। পরে তিনটি পরীক্ষা বাবদ তার কাছ থেকে ৬৭০ টাকা নেয়া হয়।
রোগীর স্বজন মেহেদি হাসান জানান, তার দাদীর ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক কোনো পরীক্ষা করতে বলেননি। দালাল ব্যবস্থাপত্রে সিপি, ইসিজি ও আরবিএস লিখে দেয়।
চুড়ামনকাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, একই ভাবে তাকেও বোকা বানিয়েছে এক দালাল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতারণায় তিনি ১ হাজারের বেশি টাকা খুঁইয়েছেন।
দৌলতদিহি গ্রামের বিজলী খাতুন জানান, মঙ্গলবার পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে তিনি পরবর্তী চিকিৎসার জন্য গেলে ডাক্তার তাকে বলেন এসব পরীক্ষা করে আনবেন। তখন বুঝতে পারেন তিনি দালালের কবলে পড়েছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। দালালদের খপ্পর থেকে রোগীদের রক্ষার জন্য নানা চেষ্টা করা হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠান।

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্যাথলজি টেস্টসহ বিভিন্ন রোগীর প্রেসক্রিপশন লিখেন দালালরা

আপডেট সময় : ১২:০৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার (প্যাথলজি টেস্ট) নাম লিখে দিচ্ছে দালালেরা। পরে পছন্দের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করে চলছে তাদের এই প্রতারণা।
বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামের আয়াতুন্নেছা (৬৫) জানান, সম্প্রতি তিনি বহির্বিভাগ থেকে ১০ টাকার টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়ে যান। চিকিৎসকের কথামতো পরের সপ্তাহে ফের হাসপাতালে আসেন। বহির্বিভাগে এক চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গেলে এক যুবক তার কাছে এসে জানতে চান ডাক্তার দেখাবেন কি না।
তিনি হ্যা বলার সাথে সাথে হাতে থাকা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে পাশের একটি কক্ষে যায় ওই যুবক। ফিরে এসেই বলে এই পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলো করিয়ে আনেন।
তখন তিনি বলেন, ডাক্তার তাকে পরীক্ষার ব্যাপারে কিছু বলেননি। ওই যুবক তাকে বলে এখানে কয়েকটি পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়া আছে। এগুলো না করালে ডাক্তার পরবর্তী চিকিৎসা দেবে না। আমার সাথে চলেন। কম টাকাতে পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করবো।
তিনি ওই যুবকের সাথে হাসপাতালের সামনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। তাকে সেখানে রেখেই ওই যুবক চলে আসে। পরে তিনটি পরীক্ষা বাবদ তার কাছ থেকে ৬৭০ টাকা নেয়া হয়।
রোগীর স্বজন মেহেদি হাসান জানান, তার দাদীর ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক কোনো পরীক্ষা করতে বলেননি। দালাল ব্যবস্থাপত্রে সিপি, ইসিজি ও আরবিএস লিখে দেয়।
চুড়ামনকাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, একই ভাবে তাকেও বোকা বানিয়েছে এক দালাল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতারণায় তিনি ১ হাজারের বেশি টাকা খুঁইয়েছেন।
দৌলতদিহি গ্রামের বিজলী খাতুন জানান, মঙ্গলবার পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে তিনি পরবর্তী চিকিৎসার জন্য গেলে ডাক্তার তাকে বলেন এসব পরীক্ষা করে আনবেন। তখন বুঝতে পারেন তিনি দালালের কবলে পড়েছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। দালালদের খপ্পর থেকে রোগীদের রক্ষার জন্য নানা চেষ্টা করা হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।