০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, শিশুটি বর্তমানে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত ৭ জুলাই (রবিবার) আনুমানিক দুপুর তিনটায় উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের চরপলিশা গ্রামের শিশু পাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত নুর নবী হোসেন ছাক্কু (৪৫) একই গ্রামের চর পলিশা শিশু পাড়ার লোকমান মন্ডলের ছেলে।
শিশুটির দাদি আছমা বেগম জানায়, আমার নাতিনের বাপ মা গার্মেন্টসে চাকরি করে। আমি তারে দেহি। দুপুর থেকেই আমার নাতিনরে তালাশ কইরা পাইতেছিলাম না। তিনটা কি সাড়ে তিনটার সময় দেহি ক্ষেতের বাতরে খাড়াইয়া কান্দিতাছে। এসময়ে মেয়েটি কাঁপছিলো বলে শিশুর দাদী আছমা বেগম জানায়। ছোড মাইয়া তো বেশি কিছু কইতে পারে না। তখন তারে কোলে নিয়ে জিগাই তোর কি হইছে। কেডা মারছে, কান্দস ক্যা। পরে আমার নাতিন বেজায়গা দেখাইয়া কইল সাক্কু জেডা আমারে এনু দুক্কু দিছে। লগে লগে ছাক্কুর বাড়িতে যাই, গিয়া দেহি কেউ বাড়িতে নাই। তারপর এলাকার সবাই জানাজানি হয়। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

শিশুটির বাবা শাহজামাল জানায়, আমার এই বাচ্চার কি অপরাধ ছিল। কেন আমার বাচ্চার সাথে এমন করা হইলো। আমি এই অপরাধের সঠিক বিচার চাই। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানায়,  তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলছে। কিছুদিন আগেও ঝগড়া হয়েছে ও মারামারির মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ছাক্কু গাজা সেবন করে। কিছুদিন আগেও তাকে মির্জা আজম চত্বরের ইচ্ছা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা করে আনা হয়েছে। যেহেতু এখনো গাজা খাওয়া ছেড়ে দেয়নি সে ধর্ষণের চেষ্টা করতেও পারে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ছাক্কুর স্ত্রী শান্তি বেগম জানায়, মেয়েটি খেলতে গিয়ে বড় একটা গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে এতে বাচ্চাটি প্রচন্ড ব্যথা পায় এবং কান্না-কাটি করতে থাকে। পরে আমার স্বামী মেয়েটিকে কোলে নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলে। আমি আমার স্বামীর সাথে অনেকদিন থেকে সংসার করে আসছি সে খুব ভালো মানুষ। আমাদের মেয়ে বিয়ে দিছি, ছেলে বিয়ে করাইছি, আমাদের নাতি নাতনি হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে আমরা এর সঠিক তদন্ত এবং বিচার চাই।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হিমন জানান, আমরা শিশু ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তবে আমরা শীগ্রই রিপোর্ট দিবো। এবিষয়ে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজু আহমেদ মুঠো ফোনে জনান, ঘটনা তিনি জানেন। মেয়ের বাবা অভিযোগ দায়ের করেছেন, ডাক্তারের রিপোর্টের পর মামলা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, শিশুটি বর্তমানে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত ৭ জুলাই (রবিবার) আনুমানিক দুপুর তিনটায় উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের চরপলিশা গ্রামের শিশু পাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত নুর নবী হোসেন ছাক্কু (৪৫) একই গ্রামের চর পলিশা শিশু পাড়ার লোকমান মন্ডলের ছেলে।
শিশুটির দাদি আছমা বেগম জানায়, আমার নাতিনের বাপ মা গার্মেন্টসে চাকরি করে। আমি তারে দেহি। দুপুর থেকেই আমার নাতিনরে তালাশ কইরা পাইতেছিলাম না। তিনটা কি সাড়ে তিনটার সময় দেহি ক্ষেতের বাতরে খাড়াইয়া কান্দিতাছে। এসময়ে মেয়েটি কাঁপছিলো বলে শিশুর দাদী আছমা বেগম জানায়। ছোড মাইয়া তো বেশি কিছু কইতে পারে না। তখন তারে কোলে নিয়ে জিগাই তোর কি হইছে। কেডা মারছে, কান্দস ক্যা। পরে আমার নাতিন বেজায়গা দেখাইয়া কইল সাক্কু জেডা আমারে এনু দুক্কু দিছে। লগে লগে ছাক্কুর বাড়িতে যাই, গিয়া দেহি কেউ বাড়িতে নাই। তারপর এলাকার সবাই জানাজানি হয়। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

শিশুটির বাবা শাহজামাল জানায়, আমার এই বাচ্চার কি অপরাধ ছিল। কেন আমার বাচ্চার সাথে এমন করা হইলো। আমি এই অপরাধের সঠিক বিচার চাই। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানায়,  তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলছে। কিছুদিন আগেও ঝগড়া হয়েছে ও মারামারির মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ছাক্কু গাজা সেবন করে। কিছুদিন আগেও তাকে মির্জা আজম চত্বরের ইচ্ছা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা করে আনা হয়েছে। যেহেতু এখনো গাজা খাওয়া ছেড়ে দেয়নি সে ধর্ষণের চেষ্টা করতেও পারে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ছাক্কুর স্ত্রী শান্তি বেগম জানায়, মেয়েটি খেলতে গিয়ে বড় একটা গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে এতে বাচ্চাটি প্রচন্ড ব্যথা পায় এবং কান্না-কাটি করতে থাকে। পরে আমার স্বামী মেয়েটিকে কোলে নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলে। আমি আমার স্বামীর সাথে অনেকদিন থেকে সংসার করে আসছি সে খুব ভালো মানুষ। আমাদের মেয়ে বিয়ে দিছি, ছেলে বিয়ে করাইছি, আমাদের নাতি নাতনি হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে আমরা এর সঠিক তদন্ত এবং বিচার চাই।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হিমন জানান, আমরা শিশু ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তবে আমরা শীগ্রই রিপোর্ট দিবো। এবিষয়ে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজু আহমেদ মুঠো ফোনে জনান, ঘটনা তিনি জানেন। মেয়ের বাবা অভিযোগ দায়ের করেছেন, ডাক্তারের রিপোর্টের পর মামলা হবে।