০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে হুমকিতে কৃষি জমি ও জনস্বাস্থ্য

জামালপুরে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অর্ধশতাধিক অবৈধ ইটভাটা দাপটের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, লোক দেখানো অভিযানে দায় সেরে অবৈধ ইটভাটাগুলোকে কার্যত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। এতে আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বায়ুদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও রোগপ্রবণ মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও চোখের জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে ইট তৈরির কাঁচামাল জোগাতে প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল)। এতে তিন ফসলি জমি দ্রুত অনুর্বর হয়ে পড়ছে। মাটি বোঝাই এসব ট্রাক চলাচলের কারণে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই খানাখন্দে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট। কৃষকদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়ে ভাটা মালিকরা টপ সয়েল তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, কমছে উৎপাদনশীল জমি, হুমকিতে পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদনের অজুহাতে গুটি কয়েকটি ভাটায় নামমাত্র জরিমানা করে প্রশাসন দায়িত্ব শেষ করছে। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও অধিকাংশ অবৈধ ভাটা বন্ধ হয়নি।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলতি বছরে কয়েকটি ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার তথ্য থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ একটি ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় এসব ভাটা নির্বিঘ্নে চলছে। ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, লোক দেখানো অভিযান বন্ধ করে অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং পরিবেশ ধ্বংস ও কৃষিজমি ক্ষয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশ্ন থেকে যায়, জামালপুরে অবৈধ ইটভাটার এই দাপট থামাতে প্রশাসন কবে বাস্তব অর্থে কঠোর হবে?

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে হুমকিতে কৃষি জমি ও জনস্বাস্থ্য

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

জামালপুরে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অর্ধশতাধিক অবৈধ ইটভাটা দাপটের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, লোক দেখানো অভিযানে দায় সেরে অবৈধ ইটভাটাগুলোকে কার্যত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। এতে আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বায়ুদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও রোগপ্রবণ মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও চোখের জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে ইট তৈরির কাঁচামাল জোগাতে প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল)। এতে তিন ফসলি জমি দ্রুত অনুর্বর হয়ে পড়ছে। মাটি বোঝাই এসব ট্রাক চলাচলের কারণে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই খানাখন্দে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট। কৃষকদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়ে ভাটা মালিকরা টপ সয়েল তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, কমছে উৎপাদনশীল জমি, হুমকিতে পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদনের অজুহাতে গুটি কয়েকটি ভাটায় নামমাত্র জরিমানা করে প্রশাসন দায়িত্ব শেষ করছে। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও অধিকাংশ অবৈধ ভাটা বন্ধ হয়নি।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলতি বছরে কয়েকটি ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার তথ্য থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ একটি ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় এসব ভাটা নির্বিঘ্নে চলছে। ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, লোক দেখানো অভিযান বন্ধ করে অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং পরিবেশ ধ্বংস ও কৃষিজমি ক্ষয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশ্ন থেকে যায়, জামালপুরে অবৈধ ইটভাটার এই দাপট থামাতে প্রশাসন কবে বাস্তব অর্থে কঠোর হবে?

এমআর/সবা