০৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সাংবাদিককে পেটালো পুলিশ, কেড়ে নিলো মোবাইল ফোন

মুন্সীগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ২০

আধিপত্য বিস্তার ও কৃষি জমিতে মাটি কাটার দ্বন্ধে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার বালুচরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এসময় ৪ টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।  বুধবার সকালে জেলার সিরাজদীখান উপজেলা বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চাঁন্দেরচর গ্রামের কামিজুদ্দিন কামু (৬০) ও কালাই চাঁন মাদবরের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় ২৫ টি টেঁটা জব্দ ও ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। আহত বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলেক চান সজীবসহ (৪০) সকলকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে টেঁটাবিদ্ধসহ আহতদের নাম জানা যায়নি। সংঘর্ষের পরপরই তারা গোপনে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে ছুটে যান।

এদিকে, সংঘর্ষের তথ্য সংগ্রহে গেলে সালাহউদ্দিন সালমান (৪২) নামে এ সাংবাদিককে পিটিয়েছে পুলিশ। এসময় তার মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া সেলিনা বেগম (৪১) নামে এক নারীকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই নারী পূর্ব চাঁন্দেরচর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। সাংবাদিক সালাহউদ্দিন সালমান দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার সিরাজদীখান উপজেলা প্রতিনিধি ও চাঁন্দেরচর গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার ও ফসলি জমিতে মাটি কাটা নিয়ে বালুচর ইউনিয়নের পুর্ব চান্দেরচর গ্রামের কামিজুদ্দিন কামু (৬০) ও কালাই চাঁন মাদবরের (৫৫) মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। সকাল ৬ টার দিকে মাটি কাটা নিয়ে উভয় গ্রুপের লোকজনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এরআগে গেলো ২১ জুন ওই ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ৪ জন টেঁটাবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়।

মোবাইল ফোনে কথা হলে কামিজউদ্দিন কামু সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছিলো। আগেও মারামারি হয়েছে। আবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। প্রতিপক্ষ কালাই চাঁন মাদবর বলেন, আমি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঢাকায় রয়েছি। কামুর লোকজন পূর্বপরিকল্পিত ভাবে পানিয়ারচর থেকে লোক ভাড়া করে এনে টেঁটা নিয়ে হামলা চালায় আমার লোকজনের উপর।

দৈনিক মানবকন্ঠের সিরাজদীখান প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন সালমান বলেন, আমার বাড়ি থেকে কিছুটা দুরে সংঘর্ষ হচ্ছিলো। আমি সংঘর্ষের তথ্য সংগ্রহে সেখানে ছুটে যাই। সেসময় সিরাজদীখান থানার ওসির সঙ্গে আমার বেশ কয়েকবার কথাও হয়েছে। সংঘর্ষ শেষে আমি বাড়ি ফিরে আসি। পরে ওসি আমাকে মোবাইল ফোনে কল করে নিয়ে যায়। আমি সেখানে পৌছতেই ওসি আমার মোবাইল ফোন সেট কেড়ে নেয়। এসময় পুলিশর ৪-৫ জন সদস্য আমাকে বেধড়ক পেটায়।

সিরাজদীখান থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ফসলি জমির মাটি কাটার টাকা ভাগবাটোয়ারা আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ২৫ রাউন্ড গুলি ছুড়া হয়েছে। সকাল ১০ টার দিকে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সাংবাদিক পেটানোর প্রসঙ্গে ওসি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক সালমান আমার পূর্ব পরিচিত। কিন্তু তিনি সেখানে এসে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এতে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। তবে নারীকে পেটানোর বিষয়ে কোন কথা বলেননি। পুলিশ সুপার আসলাম খান বলেন, সাংবাদিকের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারীকে পেটানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের দুই মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সাংবাদিককে পেটালো পুলিশ, কেড়ে নিলো মোবাইল ফোন

মুন্সীগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ২০

আপডেট সময় : ০৬:০০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

আধিপত্য বিস্তার ও কৃষি জমিতে মাটি কাটার দ্বন্ধে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার বালুচরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এসময় ৪ টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।  বুধবার সকালে জেলার সিরাজদীখান উপজেলা বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চাঁন্দেরচর গ্রামের কামিজুদ্দিন কামু (৬০) ও কালাই চাঁন মাদবরের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় ২৫ টি টেঁটা জব্দ ও ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। আহত বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলেক চান সজীবসহ (৪০) সকলকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে টেঁটাবিদ্ধসহ আহতদের নাম জানা যায়নি। সংঘর্ষের পরপরই তারা গোপনে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে ছুটে যান।

এদিকে, সংঘর্ষের তথ্য সংগ্রহে গেলে সালাহউদ্দিন সালমান (৪২) নামে এ সাংবাদিককে পিটিয়েছে পুলিশ। এসময় তার মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া সেলিনা বেগম (৪১) নামে এক নারীকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই নারী পূর্ব চাঁন্দেরচর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। সাংবাদিক সালাহউদ্দিন সালমান দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার সিরাজদীখান উপজেলা প্রতিনিধি ও চাঁন্দেরচর গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার ও ফসলি জমিতে মাটি কাটা নিয়ে বালুচর ইউনিয়নের পুর্ব চান্দেরচর গ্রামের কামিজুদ্দিন কামু (৬০) ও কালাই চাঁন মাদবরের (৫৫) মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। সকাল ৬ টার দিকে মাটি কাটা নিয়ে উভয় গ্রুপের লোকজনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এরআগে গেলো ২১ জুন ওই ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ৪ জন টেঁটাবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়।

মোবাইল ফোনে কথা হলে কামিজউদ্দিন কামু সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছিলো। আগেও মারামারি হয়েছে। আবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। প্রতিপক্ষ কালাই চাঁন মাদবর বলেন, আমি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঢাকায় রয়েছি। কামুর লোকজন পূর্বপরিকল্পিত ভাবে পানিয়ারচর থেকে লোক ভাড়া করে এনে টেঁটা নিয়ে হামলা চালায় আমার লোকজনের উপর।

দৈনিক মানবকন্ঠের সিরাজদীখান প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন সালমান বলেন, আমার বাড়ি থেকে কিছুটা দুরে সংঘর্ষ হচ্ছিলো। আমি সংঘর্ষের তথ্য সংগ্রহে সেখানে ছুটে যাই। সেসময় সিরাজদীখান থানার ওসির সঙ্গে আমার বেশ কয়েকবার কথাও হয়েছে। সংঘর্ষ শেষে আমি বাড়ি ফিরে আসি। পরে ওসি আমাকে মোবাইল ফোনে কল করে নিয়ে যায়। আমি সেখানে পৌছতেই ওসি আমার মোবাইল ফোন সেট কেড়ে নেয়। এসময় পুলিশর ৪-৫ জন সদস্য আমাকে বেধড়ক পেটায়।

সিরাজদীখান থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ফসলি জমির মাটি কাটার টাকা ভাগবাটোয়ারা আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ২৫ রাউন্ড গুলি ছুড়া হয়েছে। সকাল ১০ টার দিকে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সাংবাদিক পেটানোর প্রসঙ্গে ওসি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক সালমান আমার পূর্ব পরিচিত। কিন্তু তিনি সেখানে এসে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এতে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। তবে নারীকে পেটানোর বিষয়ে কোন কথা বলেননি। পুলিশ সুপার আসলাম খান বলেন, সাংবাদিকের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারীকে পেটানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।