পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার ডুবে আছে বৃষ্টির পানিতে টানা ভারী বৃষ্টি পাতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাছে। বাজার, রাস্তাঘাট, এমন কি বাসা বাড়িতেও পানি ডুকে পড়েছে। বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজারে ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি বৃহস্পতিবার সারাদিন অব্যাহত ছিল। টানা বারি বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার ৯ উপজেলায় বেশিরভাগ এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসিল জমি মাছের ঘের, বাসাবাড়ি। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বৃষ্টির পানিতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক এইচ এম নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ ও পৌরসভার সমন্বয়হীন উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে আজ পানিবন্দী কক্সবাজারের মানুষ। অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি সরাসরি নামতে না পেরে সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে শহরের বেশিরভাগ বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এতে পৌরসভার বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, হঠাৎ এমন টানা বৃষ্টিপাতে এমন হয়েছে। প্রকৃতির কারণে এমন অবস্থা। আবার পাহাড় কাটার কারণে নালা ভরাট এবং কিছু অসাধু ব্যক্তি নালা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাস্তার পানির ড্রেন দিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য পৌরসভা পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের চূড়া এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান। কেউ আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে শহরের সিকদারপাড়া ও পূর্ব পল্যান কাটা এলাকায় পাহাড় ধসে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- কক্সবাজার শহরের সিকদারপাড়া এলাকার সাইফুলের ছেলে মো. হাসান (১০) এবং পূর্ব পল্যান কাটা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা বেগম (৩০) রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে যেতে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। কক্সবাজার পৌর এলাকা ছাড়াও জেলার রামু উপজেলা, ঈদগাও, চকরিয়া, পেকুয়া উখিয়া এবং টেকনাফের বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
























