০৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সরকার হারাচ্ছে বছরে কোটি টাকার রাজস্ব

দাগনভূঞা সিএনজি চলাচলে রমরমা টোকেন ও স্ট্রিকার  বাণিজ্য

ফেনীর দাগনভূঞার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা রেজিষ্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন সিএনজি সমূহ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাসিক টোকেন ও স্ট্রিকার দিয়ে অবৈধভাবে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর স্টিকার গুলোতে বেশির ভাগ লেখা থাকে ” ট্রাফিক আইন মেনে চলুন” ” সিএনজি মালিক সমিতিও লেখা থাকে। আবার  কোনটা কোন মাসের কত সালের সেটাও লেখা থাকে। মাসে প্রতি সিএনজি ৪শত থেকে ৫শত টাকার টোকেন ও স্ট্রিকার দিয়ে চলছে। এ সব স্ট্রিকার ও টোকেন দিয়ে চালিত সিএনজির নেই নম্বর প্লেট, রোড় পারমিট কিংবা বৈধ কোন কাগজপত্র। আবার অনেক সিএনজির নম্বর প্লেট থাকলেও রেজিষ্ট্রেশন নবায়ন করা হয়নি। দাগনভূঞা থেকে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫ শত সিএনজি চালিত অটোরিক্সা অবৈধভাবে চলাচল করে। এসব সিএনজি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার টোকেন ও স্ট্রিকার বিক্রি হয়। ফেনী জেলায় নিবন্ধিত চালকের সংখ্যা ১২৫৫ জন হলেও বাকীরা টাকার মাধ্যমে শ্রমিক কার্ড নিয়ে চালাচ্ছেন।  প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন, সাংবাদিক   ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ টোকেন ও স্ট্রিকার বাণিজ্য চলছে বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান।
ফেনী সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিকের কাছ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করে ৫শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দাগনভূঞা  সিএনজি টোকেনগুলো  বিতরণ করে দাগনভূঞা সিএনজি মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব।
আব্দুল মোতালেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুই জানেননা বলে জানান, কিন্তু সিএনজি চালকেরা জানায়, আব্দুল মোতালেব  তাদের কাছে থেকে স্টিকারের  টাকা নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাগে ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়াও বছর শেষে নবায়ন ফি বাবদ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। আর টোকেনে প্রতি বছর যাচ্ছে ৬ হাজার টাকা। এ জন্য তারা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ নেই। অনেকের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও  রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করে টোকেন দিয়ে চালান।
এই রেজিষ্ট্রেশন বাবদ সরকার হারাচ্ছে বছরে প্রায় এক কোটি টাকা। আর সড়কেও ঘটছে অদক্ষ ড্রাইভার দ্বারা নানা রকম দূর্ঘটনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক নেতারা জানান, ট্রাফিকের প্রধান মুন্সী কালাম ও বিভিন্ন থানার ক্যাশিয়ারেরা তাদের কাছ থেকে টোকেনের টাকা নিয়ে যায়।
সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সম্পাদক আব্দুল মোতালেব এর সাথে সিএনজি স্টিকার ও টোকেন সমন্ধে কথা বলতে গেলে তিনি এই বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
দাগনভূঞা শ্রমিক লীগের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম লাবলু মেম্বার  জানান, শ্রমিক সংগঠনের নামে এক শ্রেণীর লোকেরা চাঁদা আদায় করছে বলে তিনি শুনেছেন। এসব সংগঠনের কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৯১ সালের রেজিস্ট্রেশন নম্বরে একটি মাত্র শ্রমিক সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে।
ফেনী ট্রাপিক পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান), আনোয়ারুল আজিম বলেন এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ওসি আবদুল আউয়াল জানান, হাইওয়ে পুলিশ এসব টোকেন বাণিজ্যের সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
ফেনী বিআরটিএর পরিদর্শক কে এম হোসনে মোবারক জানান, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। এতে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। টোকেনযুক্ত নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে সভায় আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।
ফেনীর নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুল ইসলাম  জানান, কোনো রকম চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার হারাচ্ছে বছরে কোটি টাকার রাজস্ব

দাগনভূঞা সিএনজি চলাচলে রমরমা টোকেন ও স্ট্রিকার  বাণিজ্য

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
ফেনীর দাগনভূঞার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা রেজিষ্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন সিএনজি সমূহ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাসিক টোকেন ও স্ট্রিকার দিয়ে অবৈধভাবে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর স্টিকার গুলোতে বেশির ভাগ লেখা থাকে ” ট্রাফিক আইন মেনে চলুন” ” সিএনজি মালিক সমিতিও লেখা থাকে। আবার  কোনটা কোন মাসের কত সালের সেটাও লেখা থাকে। মাসে প্রতি সিএনজি ৪শত থেকে ৫শত টাকার টোকেন ও স্ট্রিকার দিয়ে চলছে। এ সব স্ট্রিকার ও টোকেন দিয়ে চালিত সিএনজির নেই নম্বর প্লেট, রোড় পারমিট কিংবা বৈধ কোন কাগজপত্র। আবার অনেক সিএনজির নম্বর প্লেট থাকলেও রেজিষ্ট্রেশন নবায়ন করা হয়নি। দাগনভূঞা থেকে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫ শত সিএনজি চালিত অটোরিক্সা অবৈধভাবে চলাচল করে। এসব সিএনজি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার টোকেন ও স্ট্রিকার বিক্রি হয়। ফেনী জেলায় নিবন্ধিত চালকের সংখ্যা ১২৫৫ জন হলেও বাকীরা টাকার মাধ্যমে শ্রমিক কার্ড নিয়ে চালাচ্ছেন।  প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন, সাংবাদিক   ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ টোকেন ও স্ট্রিকার বাণিজ্য চলছে বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান।
ফেনী সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিকের কাছ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করে ৫শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দাগনভূঞা  সিএনজি টোকেনগুলো  বিতরণ করে দাগনভূঞা সিএনজি মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব।
আব্দুল মোতালেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুই জানেননা বলে জানান, কিন্তু সিএনজি চালকেরা জানায়, আব্দুল মোতালেব  তাদের কাছে থেকে স্টিকারের  টাকা নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাগে ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়াও বছর শেষে নবায়ন ফি বাবদ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। আর টোকেনে প্রতি বছর যাচ্ছে ৬ হাজার টাকা। এ জন্য তারা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ নেই। অনেকের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও  রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করে টোকেন দিয়ে চালান।
এই রেজিষ্ট্রেশন বাবদ সরকার হারাচ্ছে বছরে প্রায় এক কোটি টাকা। আর সড়কেও ঘটছে অদক্ষ ড্রাইভার দ্বারা নানা রকম দূর্ঘটনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক নেতারা জানান, ট্রাফিকের প্রধান মুন্সী কালাম ও বিভিন্ন থানার ক্যাশিয়ারেরা তাদের কাছ থেকে টোকেনের টাকা নিয়ে যায়।
সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সম্পাদক আব্দুল মোতালেব এর সাথে সিএনজি স্টিকার ও টোকেন সমন্ধে কথা বলতে গেলে তিনি এই বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
দাগনভূঞা শ্রমিক লীগের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম লাবলু মেম্বার  জানান, শ্রমিক সংগঠনের নামে এক শ্রেণীর লোকেরা চাঁদা আদায় করছে বলে তিনি শুনেছেন। এসব সংগঠনের কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৯১ সালের রেজিস্ট্রেশন নম্বরে একটি মাত্র শ্রমিক সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে।
ফেনী ট্রাপিক পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান), আনোয়ারুল আজিম বলেন এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ওসি আবদুল আউয়াল জানান, হাইওয়ে পুলিশ এসব টোকেন বাণিজ্যের সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
ফেনী বিআরটিএর পরিদর্শক কে এম হোসনে মোবারক জানান, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। এতে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। টোকেনযুক্ত নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে সভায় আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।
ফেনীর নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুল ইসলাম  জানান, কোনো রকম চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।