শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন সাধারণ । বুধবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে মেইলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় সেশন জটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে তিনি অপরাকতা উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
ড. আনোয়ার হোসেন ২০১৭ সালের ২০মে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর পদে যোগদান করেন। চাকরির প্রথম মেয়াদে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ৫৫ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি ২০২১ সালের ১৯ মে ভিসি পদের মেয়াদ শেষ করেন। একই বছরের ১ জুন অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসির দায়িত্ব পান।
অভিযোগ উঠেছে, নানা দুর্নীতির মধ্যে তিনি যবিপ্রবির ১৪ লিফট স্থাপন নিয়ে ১০ কোটি টাকার অনিয়ম করে আলোচিত হন। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আর লিফটকাণ্ডে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বাসিন্দা আব্দুল করিম। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) রয়েছে ড. আনোয়ার হোসেনের দুর্নীতির ফাইল।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগ ও সরকার পতনের পর থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। তবে দুর্নীতির অভিযুক্ত যবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর পদত্যাগ না করায় গত ১৩ আগস্ট মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, রিজেন্ট বোর্ড সদস্য ড. ইকবাল কবির জাহিদসহ উপাচার্যের অনুসারীদের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করে। ঐ দিন একই দাবিতে যবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু ম্যাুরাল, শেখ হাসিনা ম্যাুরাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের বঙ্গবন্ধুর নাম ও বঙ্গবন্ধু একাডেমিকের গ্যালারির সামনে ছবি ভাস্কর্য্য ভাঙচুর করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা। পরে দিন কর্মসূচি থেকে ভিসির বাসা ও প্রশাসনিক ভবন তালা মেরে দেয় শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। চলমান আন্দোলনের পেক্ষিতে গত সোমবার বিকালে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। আরও পদত্যাগ পত্র জমা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইকবাল কবির জাহিদ এবং উপাচার্য একান্ত সচিব মোঃ আব্দুর রশিদও। মঙ্গলবার দুপুরে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. তানভীর ইসলামসহ হলটির সকল সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ।
এদিকে, ক্যাম্পাসে ভিসি পদত্যাগের চলমান কর্মসূচির মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে ভিসির পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলো শিক্ষার্থীরা।
এই বিষয়ে যবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে যে আন্দোলন করলো সেটা সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই। তাদেরকে বলতে চাই, তারা ক্লাসরুমে ফিরে যাক। তারা জীবন গড়ুক। কারণ যেভাবে তারা আন্দোলন করছে, সেটা তো তাদের কাজ না। ট্রেজার, শিক্ষক ভিসির বাসাতে যেয়ে জোর পূর্বক পদত্যাগের দাবিতে মিছিল স্লোগান দেওয়া তাদের কাজ না। এই শিক্ষার্থীরা এতো বড় গণঅভ্যুথান ঘটালো, সেই শিক্ষার্থীরা যা করছে সেটা শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য না।
























