০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বানভাসিদের পাশে তরুণরা

দুর্যোগে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তরুণরা। তারা অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে হাতে রেখেছেন হাত। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখেছে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর জেলার পাশপাশি চট্টগ্রামের মিরসরাইবাসীও। বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকের ঠাঁয় হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এখন পানি কমতে শুরু করায় মানুষ আবার ফিরতে শুরু করেছে নিজ বাড়িতে। অনেকের মাথায় হাত! বন্যায় সব হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব। এ অবস্থায় এসব অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। তারা বানভাসি মানুষের পরম বন্ধু হিসেবে বন্যার শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে।

এর আগে ২১ আগষ্ট টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফেনী নদীর পানি বেড়ে একে একে তলিয়ে যায় মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা। প্রথম দিকে পানির তীব্রতা বেশি না থাকায় ঘরবাড়িতে অবস্থান নেন অনেকে। পরে তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এসময় যেন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন চট্টগ্রামসহ নানা এলাকার তরুণরা। তারা স্বেচ্ছায় তীব্র পানির স্রোত উপেক্ষা করে পাশে দাঁড়ান বানভাসি অসহায় মানুষের। উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণে সর্বদা নিয়োজিত ছিলো তরুণরা।

প্রথমদিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে নেমে পড়েন উদ্ধারকাজে। বোট নিয়ে ছুটে যান বন্যাদুর্গতদের পাশে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শান্তিনীড়’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, এই ভয়াবহ বন্যায় শান্তিনীড়ের বেশীর ভাগ সদস্যদের ঘর বাড়ী পানিতে তলিয়ে গেছে। এরপরও সমাজের অসহায় মানুষকে শুরু থেকে শান্তিনীড়ের সদস্যরা উদ্ধার কার্য, ত্রাণ দেয়ায় নিজেদের রাত দিন নিয়োজিত রেখেছেন। শুধু মিরসরাই নয় পার্শ্ববর্তী ফেনী জেলায়ও উদ্ধার এবং ত্রাণ বিতরণের কাজ করে যাচ্ছেন শান্তিনীড়। এখন বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে এখন আমরা সমাজের অসহায় মানুষের পুনর্বাসনে কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে আমরা বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা প্রণয়ন করতেছি। এরপর তালিকা অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার এই দুর্যোগের মুহুর্তে আমরা খুববেশী শুন্যতা অনুভব করছি মিরসরাইয়ের স্বেচ্ছাসেবীদের তরুণ নেতা আমাদের প্রয়াত সভাপতি আশরাফ উদ্দিনের। শুধু আমরা নয় পুরো মিরসরাই আজ আশরাফ উদ্দিনের শুন্যতা অনুভব করছে বলে আমি মনে করি। তিনি বেঁচে থাকলে আমরা এই দুর্যোগে মুহুর্তে আরো সাহস পেতাম।

দূর্বার প্রগতি সংঘ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসান সাইফ উদ্দিন বলেন, বন্যার শুরু থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মিরসরাইয়ের প্রতিটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা, হাইওয়েতে ট্রাফিকিং, বন্যার্তদের মাঝে খাবার-পানি বিতরণ, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ ও ত্রাণ প্রস্তুতে দিন-রাত কাজ করছেন দূর্বারে সদস্যরা।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উত্তরণ’র সভাপতি আবু সায়েদ বলেন, আমাদের সংগঠনের তরুণরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ত্রাণ দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি শুকনো খাবার,পানি বিতরণ করেছি আমরা। এছাড়া পানি নেমে যাওয়ার পর স্থানীয়দের পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করতে তহবিলও গঠন করছি আমরা। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছি এখন। সদস্যরা ৪-৫টি দলে বিভক্ত হয়ে গত চারদিন অন্তত ১৫শ মানুষকে সেবা দিয়েছে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শান্তিনীড়, দুর্বার প্রগতি সংগঠন, হিতকরী, আমবাড়িয়া যুব সংঘ, শতাব্দী সংঘ, মিরসরাইয়ান, চট্টগ্রাম যুব রেড ক্রিসেন্ট অ্যালমনাই, রোটারি ক্লাব অব চিটাগং, লিও ক্লাব অব চিটাগং, ইউসাম, অপকা, নয়াদালান, রোভার স্কাউট বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি চট্টগ্রাম, উত্তরণ,পশ্চিম জোয়ার ক্রীড়া সংস্থা, উদয়ন ক্লাব, বিজলী ক্লাব, দুরন্ত সংঘ, প্রজন্ম মিরসরাই, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং মিরসরাই, অদম্য যুব সংঘ, ইছামতী যুব কল্যাণ সংঘসহ নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বানভাসি মানুষের সহায়তায় কাজ করছে।

সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সাহায্য করছে তাদের। সেনাবাহিনীও উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রবাসীরাও বন্যার শুরু থেকে বানভাসি মানুষের পাশে রয়েছেন।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রশাসক মাহফুজা জেরিন বলেন, তরুণরা দেশের সব প্রেক্ষাপটে মানুষের পরম বন্ধু হয়ে কাজ করেন। এবারের বন্যায় তাদের উদ্যোগ আমাকে রীতিমতো অবাক করেছে। অক্লান্ত শ্রম ও সাহসের সঙ্গে তারা অসংখ্য বানভাসি মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তারা খাবার ও নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বানভাসিদের পাশে তরুণরা

আপডেট সময় : ০৬:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৪

দুর্যোগে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তরুণরা। তারা অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে হাতে রেখেছেন হাত। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখেছে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর জেলার পাশপাশি চট্টগ্রামের মিরসরাইবাসীও। বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকের ঠাঁয় হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এখন পানি কমতে শুরু করায় মানুষ আবার ফিরতে শুরু করেছে নিজ বাড়িতে। অনেকের মাথায় হাত! বন্যায় সব হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব। এ অবস্থায় এসব অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। তারা বানভাসি মানুষের পরম বন্ধু হিসেবে বন্যার শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে।

এর আগে ২১ আগষ্ট টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফেনী নদীর পানি বেড়ে একে একে তলিয়ে যায় মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা। প্রথম দিকে পানির তীব্রতা বেশি না থাকায় ঘরবাড়িতে অবস্থান নেন অনেকে। পরে তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এসময় যেন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন চট্টগ্রামসহ নানা এলাকার তরুণরা। তারা স্বেচ্ছায় তীব্র পানির স্রোত উপেক্ষা করে পাশে দাঁড়ান বানভাসি অসহায় মানুষের। উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণে সর্বদা নিয়োজিত ছিলো তরুণরা।

প্রথমদিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে নেমে পড়েন উদ্ধারকাজে। বোট নিয়ে ছুটে যান বন্যাদুর্গতদের পাশে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শান্তিনীড়’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, এই ভয়াবহ বন্যায় শান্তিনীড়ের বেশীর ভাগ সদস্যদের ঘর বাড়ী পানিতে তলিয়ে গেছে। এরপরও সমাজের অসহায় মানুষকে শুরু থেকে শান্তিনীড়ের সদস্যরা উদ্ধার কার্য, ত্রাণ দেয়ায় নিজেদের রাত দিন নিয়োজিত রেখেছেন। শুধু মিরসরাই নয় পার্শ্ববর্তী ফেনী জেলায়ও উদ্ধার এবং ত্রাণ বিতরণের কাজ করে যাচ্ছেন শান্তিনীড়। এখন বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে এখন আমরা সমাজের অসহায় মানুষের পুনর্বাসনে কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে আমরা বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা প্রণয়ন করতেছি। এরপর তালিকা অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার এই দুর্যোগের মুহুর্তে আমরা খুববেশী শুন্যতা অনুভব করছি মিরসরাইয়ের স্বেচ্ছাসেবীদের তরুণ নেতা আমাদের প্রয়াত সভাপতি আশরাফ উদ্দিনের। শুধু আমরা নয় পুরো মিরসরাই আজ আশরাফ উদ্দিনের শুন্যতা অনুভব করছে বলে আমি মনে করি। তিনি বেঁচে থাকলে আমরা এই দুর্যোগে মুহুর্তে আরো সাহস পেতাম।

দূর্বার প্রগতি সংঘ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসান সাইফ উদ্দিন বলেন, বন্যার শুরু থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মিরসরাইয়ের প্রতিটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা, হাইওয়েতে ট্রাফিকিং, বন্যার্তদের মাঝে খাবার-পানি বিতরণ, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ ও ত্রাণ প্রস্তুতে দিন-রাত কাজ করছেন দূর্বারে সদস্যরা।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উত্তরণ’র সভাপতি আবু সায়েদ বলেন, আমাদের সংগঠনের তরুণরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ত্রাণ দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি শুকনো খাবার,পানি বিতরণ করেছি আমরা। এছাড়া পানি নেমে যাওয়ার পর স্থানীয়দের পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করতে তহবিলও গঠন করছি আমরা। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছি এখন। সদস্যরা ৪-৫টি দলে বিভক্ত হয়ে গত চারদিন অন্তত ১৫শ মানুষকে সেবা দিয়েছে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শান্তিনীড়, দুর্বার প্রগতি সংগঠন, হিতকরী, আমবাড়িয়া যুব সংঘ, শতাব্দী সংঘ, মিরসরাইয়ান, চট্টগ্রাম যুব রেড ক্রিসেন্ট অ্যালমনাই, রোটারি ক্লাব অব চিটাগং, লিও ক্লাব অব চিটাগং, ইউসাম, অপকা, নয়াদালান, রোভার স্কাউট বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি চট্টগ্রাম, উত্তরণ,পশ্চিম জোয়ার ক্রীড়া সংস্থা, উদয়ন ক্লাব, বিজলী ক্লাব, দুরন্ত সংঘ, প্রজন্ম মিরসরাই, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং মিরসরাই, অদম্য যুব সংঘ, ইছামতী যুব কল্যাণ সংঘসহ নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বানভাসি মানুষের সহায়তায় কাজ করছে।

সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সাহায্য করছে তাদের। সেনাবাহিনীও উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রবাসীরাও বন্যার শুরু থেকে বানভাসি মানুষের পাশে রয়েছেন।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রশাসক মাহফুজা জেরিন বলেন, তরুণরা দেশের সব প্রেক্ষাপটে মানুষের পরম বন্ধু হয়ে কাজ করেন। এবারের বন্যায় তাদের উদ্যোগ আমাকে রীতিমতো অবাক করেছে। অক্লান্ত শ্রম ও সাহসের সঙ্গে তারা অসংখ্য বানভাসি মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তারা খাবার ও নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।