১১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই অনিয়ম-দূনীতির মূল হোতা

এসএসসি পরিক্ষার পূর্বে টেস্ট পরিক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সনদ-নম্বরপত্র প্রদান, ভূল সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১০৮ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান লিটন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা যারা টেস্ট পরিক্ষায় অকৃতকার্য হয় তাদেরকে পরিক্ষায় বসার সুযোগ দিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। দাবীকৃত টাকা না দিলে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ হয় না। এছাড়া, বিদ্যালয়ে অস্থায়ী টয়লেট তৈরির জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই দফায় ৩০ ও ৫০ করে নিয়েছেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধনের জন্যও অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. বিপ্লব খাঁন জানান, আমি এই বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পরিক্ষা দেই। আমার সনদ ও নম্বরপত্রে বাবার নাম ভুল থাকায় প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানাই। তিনি কোন সমাধান দেয়নি। পরবর্তীতে তার পরামর্শে অফিস সহায়কের কাছে গেলে তিনি ভুল সংশোধন করার জন্য ১০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়। ১০ হাজার টাকা আমি তাকে দিলে আমাকেই ঢাকায় গিয়ে সনদ আনতে হয়। আমি সংশোধনকৃত সনদ ও নম্বরপত্র পাই। স্কুল থেকে রেজিষ্ট্রেশনপত্র চাইলে পুনরায় আবেদন করতে বলে এবং আরো ১০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়।
শিক্ষার্থী শ্রাবণ জানান, আমি এই স্কুলের ২০২৩ সালের এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিলাম। আমি টেস্ট পরিক্ষায় আটকিয়ে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেয়। পরে সেই টাকা দেবার পর পরিক্ষা দিতে পারি। সেই টাকাটা দিতে আমার খুব কষ্ট হয়েছিল।
অভিভাবক মানিক জানান, আমার দুজন ছেলে এই স্কুলে পড়াশুনা করেছে। বড় ছেলে টেষ্টে ফেল করায় এইএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য স্কুলে দশ হাজার টাকা দিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। শিক্ষকদের অনুরোধ করার পরও কোন কাজ হয়নি। ছোট ছেলের একইভাবে টেষ্টে ফেল করে। এতোগুলো টাকা দিয়ে পরীক্ষা দিতে রাজি না হওয়ায় ছেলে আর পরীক্ষা দিতে পারেনি।
অভিভাবক আইয়ুব আলী জানান, ২০১৭ সালে তার ছেলের জন্য এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনের জন্য দিতে হয়েছে তিন হাজার টাকা। এবার মেয়ের পরিক্ষার জন্য চার হাজার টাকা দিতে হয়েছে প্রধান শিক্ষকের নিকট। আমি কিছু টাকা কম রাখার জন্য বললেও  তিনি কোন কথা না বলে সম্পূর্ণ টাকা নিয়েছিল।
যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান লিটন জানান, আমি এই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খুব ভালোভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছি। আমি প্রধান শিক্ষক আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। আমি বরং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে সাহায্য করেছি। আমি এই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে কিছু মানুষ। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: বেলাল হোসেন জানান, ‘যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একটি অভিযোগপত্রের অনুলিপি পেয়েছি। সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই অনিয়ম-দূনীতির মূল হোতা

আপডেট সময় : ০৪:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
এসএসসি পরিক্ষার পূর্বে টেস্ট পরিক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সনদ-নম্বরপত্র প্রদান, ভূল সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১০৮ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান লিটন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা যারা টেস্ট পরিক্ষায় অকৃতকার্য হয় তাদেরকে পরিক্ষায় বসার সুযোগ দিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। দাবীকৃত টাকা না দিলে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ হয় না। এছাড়া, বিদ্যালয়ে অস্থায়ী টয়লেট তৈরির জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই দফায় ৩০ ও ৫০ করে নিয়েছেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধনের জন্যও অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. বিপ্লব খাঁন জানান, আমি এই বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পরিক্ষা দেই। আমার সনদ ও নম্বরপত্রে বাবার নাম ভুল থাকায় প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানাই। তিনি কোন সমাধান দেয়নি। পরবর্তীতে তার পরামর্শে অফিস সহায়কের কাছে গেলে তিনি ভুল সংশোধন করার জন্য ১০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়। ১০ হাজার টাকা আমি তাকে দিলে আমাকেই ঢাকায় গিয়ে সনদ আনতে হয়। আমি সংশোধনকৃত সনদ ও নম্বরপত্র পাই। স্কুল থেকে রেজিষ্ট্রেশনপত্র চাইলে পুনরায় আবেদন করতে বলে এবং আরো ১০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়।
শিক্ষার্থী শ্রাবণ জানান, আমি এই স্কুলের ২০২৩ সালের এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিলাম। আমি টেস্ট পরিক্ষায় আটকিয়ে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেয়। পরে সেই টাকা দেবার পর পরিক্ষা দিতে পারি। সেই টাকাটা দিতে আমার খুব কষ্ট হয়েছিল।
অভিভাবক মানিক জানান, আমার দুজন ছেলে এই স্কুলে পড়াশুনা করেছে। বড় ছেলে টেষ্টে ফেল করায় এইএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য স্কুলে দশ হাজার টাকা দিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। শিক্ষকদের অনুরোধ করার পরও কোন কাজ হয়নি। ছোট ছেলের একইভাবে টেষ্টে ফেল করে। এতোগুলো টাকা দিয়ে পরীক্ষা দিতে রাজি না হওয়ায় ছেলে আর পরীক্ষা দিতে পারেনি।
অভিভাবক আইয়ুব আলী জানান, ২০১৭ সালে তার ছেলের জন্য এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনের জন্য দিতে হয়েছে তিন হাজার টাকা। এবার মেয়ের পরিক্ষার জন্য চার হাজার টাকা দিতে হয়েছে প্রধান শিক্ষকের নিকট। আমি কিছু টাকা কম রাখার জন্য বললেও  তিনি কোন কথা না বলে সম্পূর্ণ টাকা নিয়েছিল।
যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান লিটন জানান, আমি এই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খুব ভালোভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছি। আমি প্রধান শিক্ষক আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। আমি বরং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে সাহায্য করেছি। আমি এই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে কিছু মানুষ। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: বেলাল হোসেন জানান, ‘যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একটি অভিযোগপত্রের অনুলিপি পেয়েছি। সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’