ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর একেএম শামছুদ্দীন বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদ থাকবেন। আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে একবার ভোট দিয়ে দেখেন দেশ কিভাবে চালায়। আল কুরআনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে সংখ্যগরিষ্ঠ মুসলিম এলাকায় সংখ্যালঘু হচ্ছেন আমানত। আপনারা আপনাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘেœ করবেন। জামায়াত প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশ গড়ার কাজে সহযোগিতা করে আসছে। এখনও জামায়াত দেশ গড়ার কাজে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করছে। ৪ আগস্ট দেশে যে ভয়াবহ নৈরাজ্য সংঘটিত হয়েছে সেটি থেকে ফেনীও বাদ পড়েনি। মহিপালে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী নিরীহ ছাত্রদের উপর দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরেরদিন ৫ আগস্ট দেশে যখন নতুন স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে সেইদিন থেকে টানা ১৫দিন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা ফেনীর বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে মন্দির পাহারা দিয়েছে। ফেনীর কোথাও কোন মন্দির কিংবা অন্যান্য উপাসনালয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। রাত-দিন সমানভাবে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা মন্দির পাহারারত ছিল।
গতকাল শুক্রবার রাতে শহরের ভাষা শহীদ আবদুস সালাম কমিউনিটি সেন্টারে ফেনী শহর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমীরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান ঘোষনা দিয়েছেন সামনে আপনাদের যে বড় উৎসব রয়েছে সেই উৎসবেও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পাহারা দিবেন। আপনারা দেশের নাগরিক হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোন কুচক্রী মহল যেন আপনাদের উপর অন্যায়-অবিচার করতে না পারে সেই জন্য জামায়াত-শিবির সতর্ক থাকবে। আপনারা যে কোন সমস্যা হলে জামায়াতকে অবহিত করবেন। আমরা চাই আপনারা নিরাপদে যেন বসবাস করতে পারেন সেই জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা থাকবে। জামায়াতে ইসলামীর কাজই হচ্ছে সাধারণ মানুষের সেবা করা। আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। বন্যাকালীন সময়ে আমীরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান ঘোষনা দিয়েছেন সাংগঠনিক সকল কাজ বন্ধ রেখে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য। সেই হিসেবে ফেনীতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয়েছে। জামায়াত সবসময় দেশের মানুষের মাঝে কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। এছাড়াও দেশের যে কোন দুযোর্গ মুহুর্তে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
শহর আমীর মোহাম্মদ ইলিয়াসের সভাপতিত্বে ও শহর সেক্রেটারি ইঞ্চিনিয়ার নজরুল ইসলামের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রচার সেক্রেটারি আনম আবদুর রহীম, জামায়াত নেতা মনির চৌধুরী, শহর সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা সামাউন হাসান প্রমুখ।
এসময় ২নং ওয়ার্ড আমীর মাইন উদ্দিন মিন্টু, ১০নং ওয়ার্ড আমীর মাওলানা আরফান উদ্দিন, ১নং ওয়ার্ড সভাপতি আবদুল্লাহ ফারুক, ৩নং আমীর গিয়াস উদ্দিন, ৭নং আমীর নুর নবী, ১১নং ওয়ার্ড সভাপতি আবু তৈয়ব, ১৫নং সভাপতি মাওলানা মহিব্বুল হাসান কাওসার, ১৪নং ওয়ার্ড জামায়াত নেতা মাস্টার জিয়া উদ্দিন বাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আনম আবদুর রহীম বলেন, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ভিন্ন উপজেলা থেকে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেছে। উদ্ধারের পর বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন রান্না করা খাবার দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইঞ্জিল চালিত বোর্ড এনে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর উপজেলা, দাগনভূঞা, সোনাগাজী সহ বিভিন্ন এলাকায় নারী-শিশু, বৃদ্ধ মানুষকে উদ্ধার করেছি। আমরা হিন্দুদের সাথে সবসময় সৌহার্দ্রপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি। কিছু কুচক্রী মহল অপপ্রচারে ব্যবস্থ থাকে। আপনারা কোন প্রকার গুজবে কান দিবেন না। ৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তনের পর ফেনীসহ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা সশরীরের রাত জেগে থেকে মন্দির পাহারা দিয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে থেকে কল্যাণমূলক কাজ করতে চাই। আপনারা যে কোন বিষয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন।
মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, জামায়াত শুধুমাত্র মুসলমান নয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও করার সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের সঙ্গে অমুসলিম ভাইয়েরাও যুক্ত রয়েছেন। আমরা আপনাদের সুখে-দুঃখে অংশীদার হতে চাই। বিগত সময়ে যেভাবে আপনাদের মন্দির পাহারা দিয়েছি ঠিক তেমনিভাবে আগামী দিনে আপনাদের যে বড় ধর্মীয় উৎসব রয়েছে সেখানেও আপনারা চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। জেলা আমীর বলে দিয়েছেন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা যখন যে কোন সহযোগিতা চাইবে যেন আমরা সেখানে হাজির হই। আমরা আপনাদের সঙ্গে সবসময় থাকতে চাই।
























