০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অশ্লীল ভিডিও দেখে যৌন নির্যাতনে শিশু তাসনিয়াকে হত্যা করে ইশিতা

 

মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখে উত্তেজিত হয়ে পাঁচ বছরের শিশু তাসনিয়াকে যৌন নির্যাতন করেছিলো ইশিতা আক্তার ঋতু (১৯) নামে এক যুবতী। এখানেই শেষ না ওই শিশুকে রীতিমত হত্যা করে মরদেহ লেপের ভেতরে পেঁচিয়ে রেখে রাতের আঁধারে বাড়ির পাশের পুকুরে ওই শিশুর মরদেহ ফেলে দেয়া হয়। সাজানো হয় পানিতে ডুবে মৃত্যুর নাটক। অবিশ্বাস্য মনে হলেও নৃৃৃশংস এ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তাসনিয়ার পাশের বাড়ির বাসিন্দা ঋতু। যে কী না রীতিমতো যৌন বিষয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত। গত ২০ জুলাই যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ঋতু ও তার বাবা তহিদুর রহমান (৫৫) এবং মা নিরু বেগমকে (৪২) আটক করেছে পিবিআই যশোরের সদস্যরা। ঘটনার দুই মাসের মাথায় ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদঘাটন করেছে তারা।
শনিবার রাতে আটকের পর রোববার ঘটনাস্থল নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় ঋতু ও তার বাবাকে। এসময় তারা নিজ মুখেই হত্যার পেছনের কারণ স্বীকার করেন। কিভাবে হত্যা করা হয় তারও বর্ণনা দেন তারা। তাদের এ ধরনের নৃশংসতায় হতবাক হয়েছেন এলাকাবাসী। সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, মরদেহ পানিতে পাওয়ার পর তাদের ধারনাই ছিলো ডুবে মারা গেছে সাড়ে পাঁচ বছরের তাসনিয়া। তাই তারা মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার জন্য পুলিশকে বারবার অনুরোধ জানান। কিন্তু তাসনিয়ার শরীরের কয়েকটি ক্ষত চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় বাঘারপাড়া থানার ওসি রোকিবুজ্জামানের। একপর্যায় ময়না তদন্তের পর বেরিয়ে আসে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে তাসনিয়াকে। সেসময় থানা পুলিশও ঋতু ও তার পরিবারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তারা মুখ খোলেনি। ময়নাতদন্তে আরও উঠে আসে হত্যার আগে তাসনিয়াকে যৌননিপীড়ন করা হয়েছিলো। এই তথ্য পেয়ে থানা পুলিশের তদন্ত ঘুরে যায় অন্যদিকে। তারা নির্যাতকের সন্ধানে মাঠে নামে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করেন তাসনিয়ার পিতা রজিবুল ইসলাম।

অন্যদিকে, পিবিআই যশোরের সদস্যরা পড়ে থাকে ঋতুকে নিয়েই। ঘটনার পরপরই তড়িঘড়ি করে ঋতুর বিয়ে দেয়া ও তার একেক সময় একেক রকম তথ্য দেয়ায় সন্দেহ প্রকট হয়। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক ঘটনা।

এই বিষয়ে পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন বলেন, এঘটনায় সেপ্টেম্বরে মামলা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। এরপর এসআই স্নেহাশীষের নেতৃত্বে একটি টিম দফায় দফায় ওই এলাকায় যায়। প্রথমে ঋতুর বাবা ঘটনাটি স্বীকার করেন। এরপর সব বেরিয়ে আসে। তিনি আরও বলেন, ঋতুর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছেন তাসনিয়া। ঋতু পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছিলো।

গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশি শিশু তাসনিয়া ওই বাড়িতে যায়। সে সময় ঋতু তাকে একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে পরনের প্যান্ট খুলে যৌন আকাঙ্খা চরিতার্থ করে এবং ভিডিও করে। সে সময় যৌনাঙ্গে ব্যথায় পাওয়ায় তাসনিয়া চিৎকার দেয়। তখন তাকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিশুটি। পরে একটি শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। মারা যাওয়ার পর ঋতু ও তার মা-বাবা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। তারা লেপতোষক মুড়িয়ে স্টিলের বাক্সের মধ্যে রেখে দেয়। পরে গভীর রাতে তাকে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। সকালে যখন শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয় সে সময় এলাকার লোকজন ও পরিবারের লোকজন মনে করে পানিতে ডুবে তাসনিয়ার মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশের ময়নাতদন্ত করে। ওই ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে পিবিআই তদন্ত করে আসল রহস্য উদঘাটন করে। এ ঘটনায় আটক তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অশ্লীল ভিডিও দেখে যৌন নির্যাতনে শিশু তাসনিয়াকে হত্যা করে ইশিতা

আপডেট সময় : ০২:২৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 

মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখে উত্তেজিত হয়ে পাঁচ বছরের শিশু তাসনিয়াকে যৌন নির্যাতন করেছিলো ইশিতা আক্তার ঋতু (১৯) নামে এক যুবতী। এখানেই শেষ না ওই শিশুকে রীতিমত হত্যা করে মরদেহ লেপের ভেতরে পেঁচিয়ে রেখে রাতের আঁধারে বাড়ির পাশের পুকুরে ওই শিশুর মরদেহ ফেলে দেয়া হয়। সাজানো হয় পানিতে ডুবে মৃত্যুর নাটক। অবিশ্বাস্য মনে হলেও নৃৃৃশংস এ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তাসনিয়ার পাশের বাড়ির বাসিন্দা ঋতু। যে কী না রীতিমতো যৌন বিষয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত। গত ২০ জুলাই যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ঋতু ও তার বাবা তহিদুর রহমান (৫৫) এবং মা নিরু বেগমকে (৪২) আটক করেছে পিবিআই যশোরের সদস্যরা। ঘটনার দুই মাসের মাথায় ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদঘাটন করেছে তারা।
শনিবার রাতে আটকের পর রোববার ঘটনাস্থল নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় ঋতু ও তার বাবাকে। এসময় তারা নিজ মুখেই হত্যার পেছনের কারণ স্বীকার করেন। কিভাবে হত্যা করা হয় তারও বর্ণনা দেন তারা। তাদের এ ধরনের নৃশংসতায় হতবাক হয়েছেন এলাকাবাসী। সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, মরদেহ পানিতে পাওয়ার পর তাদের ধারনাই ছিলো ডুবে মারা গেছে সাড়ে পাঁচ বছরের তাসনিয়া। তাই তারা মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার জন্য পুলিশকে বারবার অনুরোধ জানান। কিন্তু তাসনিয়ার শরীরের কয়েকটি ক্ষত চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় বাঘারপাড়া থানার ওসি রোকিবুজ্জামানের। একপর্যায় ময়না তদন্তের পর বেরিয়ে আসে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে তাসনিয়াকে। সেসময় থানা পুলিশও ঋতু ও তার পরিবারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তারা মুখ খোলেনি। ময়নাতদন্তে আরও উঠে আসে হত্যার আগে তাসনিয়াকে যৌননিপীড়ন করা হয়েছিলো। এই তথ্য পেয়ে থানা পুলিশের তদন্ত ঘুরে যায় অন্যদিকে। তারা নির্যাতকের সন্ধানে মাঠে নামে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করেন তাসনিয়ার পিতা রজিবুল ইসলাম।

অন্যদিকে, পিবিআই যশোরের সদস্যরা পড়ে থাকে ঋতুকে নিয়েই। ঘটনার পরপরই তড়িঘড়ি করে ঋতুর বিয়ে দেয়া ও তার একেক সময় একেক রকম তথ্য দেয়ায় সন্দেহ প্রকট হয়। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক ঘটনা।

এই বিষয়ে পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন বলেন, এঘটনায় সেপ্টেম্বরে মামলা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। এরপর এসআই স্নেহাশীষের নেতৃত্বে একটি টিম দফায় দফায় ওই এলাকায় যায়। প্রথমে ঋতুর বাবা ঘটনাটি স্বীকার করেন। এরপর সব বেরিয়ে আসে। তিনি আরও বলেন, ঋতুর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছেন তাসনিয়া। ঋতু পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছিলো।

গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশি শিশু তাসনিয়া ওই বাড়িতে যায়। সে সময় ঋতু তাকে একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে পরনের প্যান্ট খুলে যৌন আকাঙ্খা চরিতার্থ করে এবং ভিডিও করে। সে সময় যৌনাঙ্গে ব্যথায় পাওয়ায় তাসনিয়া চিৎকার দেয়। তখন তাকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিশুটি। পরে একটি শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। মারা যাওয়ার পর ঋতু ও তার মা-বাবা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। তারা লেপতোষক মুড়িয়ে স্টিলের বাক্সের মধ্যে রেখে দেয়। পরে গভীর রাতে তাকে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। সকালে যখন শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয় সে সময় এলাকার লোকজন ও পরিবারের লোকজন মনে করে পানিতে ডুবে তাসনিয়ার মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশের ময়নাতদন্ত করে। ওই ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে পিবিআই তদন্ত করে আসল রহস্য উদঘাটন করে। এ ঘটনায় আটক তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।