পূর্ব বগুড়াবাসীর দুর্ভোগ এবার পরিণত হয়েছে ঝুঁকিতে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে শহরের পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীতে। আর এতে স্রোতের গতিও বেড়েছে। নদীটির ওপর নির্মাণাধীন ফতেহ আলী ব্রিজের পাশের বিকল্প বাঁশের সাঁকোটি স্রোতের গতিতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটির ওপর দিয়েই দিনরাতে পারাপার হচ্ছে পূর্ব বগুড়ার সদর, গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা এই ৪ উপজেলার অসংখ্য মানুষ।
বগুড়ার মূল শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ফতেহ আলী ব্রিজ ভাঙা ও নতুন ব্রিজ নির্মাণ শুরুর পর থেকেই মহাসংকটে পূর্ব বগুড়ার মানুষ। ১৯৭০ সালে নির্মিত ফতেহ আলী ব্রিজকে ২০১৮ সালের আগস্টে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় তিন মাস পর ব্রিজটির ওপর দিয়ে ভারি যান চলাচল বন্ধে উভয়পাশে তিনটি করে ছ’টি পিলার বসানো হয়।
দীর্ঘ সময় পর এই ব্রিজ ভেঙে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ দশমিক ৩ মিটার চওড়া করে গত বছরের ২২শে মে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণের শুরু থেকেই ঢিলেঢালা কাজ করার অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। যার প্রমাণ মেলে চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার জামির ইকবাল বলেন, যে কাজ বাকি আছে তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে।
ব্রিজটি ভাঙার পর পূর্ব বগুড়ার মানুষের শহরে প্রবেশের জন্য এ পথে কোন বিকল্প পরিকল্পনা ছিল না। পরে ওই এলাকার মানুষের দাবির মুখে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেয়। এরপর চাপ বাড়ায় আরেকটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয় যা এখন অকেজো। তবে প্রথমে যে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয় মূলত এক বছরের বেশি সময় ধরে ওই অবস্থাতেই তা ব্যবহার হয়ে আসছে।
এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটিই এখন শহরের পূর্বাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। নারী-শিশু, বয়োবৃদ্ধ সবাই জেনে-বুঝেই বাধ্য হয়েই পার হচ্ছেন সাঁকোটি। সাঁকোটির অনেক বাঁশ ভেঙে গেছে, নড়বড়ে হয়ে গেছে অনেক খুঁটি, লোহা দিয়ে আটকানো অনেক বাঁশই খুলে গেছে।
একসাথে বেশি মানুষ পারাপার হতে গেলে নড়ে ওঠে সাঁকোটি। হতাহত বা প্রাণহানির শঙ্কা নিয়েই তবু চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, সময়মত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় পূর্ব বগুড়ার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এজন্য ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
























