নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে বসত ঘর। এখন থাকার কোন ঘর নেই। সন্তান-সন্ততি নিয়ে রয়েছেন নিদারুণ কষ্টে। এভাবে দিন অতিবাহিত করলেও এখন পর্যন্ত কেউ তার খোঁজ নেয়নি।
ঘটনাটি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে মধ্যরাতে এই গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলীর ঘর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর। হাতে কোন অর্থ না থাকায় খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। ঘর নেই,খাবারও নেই। আশপাশের বাড়িঘর থেকে প্রতিবেলা খাবার দিয়ে সহায়তা করছেন প্রতিবেশীরা।
ইদ্রিস আলীর প্রতিবেশী আবুল খায়ের বলেন,বর্তমানে ছেলে মেয়ে নিয়ে ইদ্রিস ভাই খুব কষ্টে আছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। কেউ তাকে কোন সাহায্য করেনি। ঢল তাকে নি:স্ব করে দিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তের ভাতিজা ওয়াজিদুর রহমান বলেন,আকস্মিক বন্যায় ওই ঘরটি ভেঙে গেছে। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই একটা ঘর তৈরি করে দেবার জন্য।
ইদ্রিস আলীর মা হাজেরা খাতুন বলেন,আমার পুতের ঘরডা ঢলে ভাসায়া নিসে। অহন চোহে সব অন্ধকার দেখতাছি।
কান্নাজড়িত কন্ঠে ক্ষতিগ্রস্তের ছেলে মারুফ হোসেন বলে,আমরার ঘরডা ভাইঙ্গা গেসে। আমরার সব ঢলে ভাসায়া নিছে। অহন আমরা থাকতে পারতাছি না।
ঘর হারানো ইদ্রিস আলী বলেন,যা কিছু ঘরে আছিলো সব ভাসায়া নিছে। অহন আমি নি:স্ব। এই পর্যন্ত কেউ আমার কোন খোঁজখবর নিছেনা। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার আজিজুল হক বলেন,আমরা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ইদ্রিস আলীর পাশে দাঁড়াবো। আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাই সবাই যেন তার পাশে দাঁড়ায়।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সাথে রাস্তাঘাট,সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইদ্রিস আলীর বিষয়টি আমরা জানলাম। তাকে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা করার চেষ্টা থাকবে আমাদের।























