০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাবিপ্রবিতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষককে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট; শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবমাননাকর পোস্টের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে বেনামে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেনামে করা ওই পোস্টে লেখা হয়, “তিন গাধার পিঠের উপর চলছে ইংরেজি বিভাগ”। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভাগের এক শিক্ষককে “বড় আপা” বলে অভিহিত করে দাবি করা হয় তিনি বিভাগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে “হারুনের ভাতের হোটেল” বানিয়েছেন এবং পরীক্ষার সময় দায়িত্বে অবহেলা ও নকলের সুযোগ দেন। অপর একজন শিক্ষককে “মেজ ভাই” উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি নারীবাদীর মুখোশ পরে ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ করেন এবং রাতে গোপন মিটিং আয়োজন করেন। তৃতীয় শিক্ষককে “ছোট ভাই” বলে অভিহিত করে পোস্টে বলা হয়, তিনি ষড়যন্ত্র ও প্রভাবের শিকার হয়ে ফ্যাসিস্ট মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।

বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই পোস্টের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, শিক্ষকদের ভুল থাকলে গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু এভাবে সম্মানহানি করা অন্যায়। শিক্ষার্থীরা পোস্টদাতার পরিচয় উদ্ঘাটন করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাফুল পারভেজ বলেন, “আমাদের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক পোস্ট করা হয়েছে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে, এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। যে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী সরকার টিকে থাকতে পারেনি, সেখানে পাবিপ্রবিতে ষড়যন্ত্রকারীকে আমরা টিকে থাকতে দেব না। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা যদি সুস্পষ্ট ভূমিকা না নেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা জেগে উঠব। যারা এই কাজে ইন্ধন দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা চাই এবং কঠোর থেকে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আশা করছি, এই দুষ্কৃতিকারীরা অবশ্যই শাস্তি পাবেন।”

আরেক শিক্ষার্থী সুস্মিতা বিশ্বাস বলেন, “দুষ্কৃতিকারী তাদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের শিক্ষকদের নামে যা খুশি বলে যাচ্ছে, যা আমাদের ইংরেজি বিভাগের জন্য লজ্জাজনক। শিক্ষকরা আমাদের গুরুজন। আমরা কখনো চাই না, আমাদের শিক্ষকের সম্মানহানি হোক। শিক্ষকের সম্মানহানি হওয়া মানে পুরো জাতির সম্মানহানি হওয়া। এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

এ সময় শিক্ষার্থীরা পোস্টদাতার পরিচয় প্রকাশ ও বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রক্টর ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকের নিকট আবেদন জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, “আমরা নিজেরাও শিক্ষক। তোমরা যে এরকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছ, আমরা তোমাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা পদক্ষেপ নেব।”

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবিপ্রবিতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষককে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট; শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবমাননাকর পোস্টের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে বেনামে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেনামে করা ওই পোস্টে লেখা হয়, “তিন গাধার পিঠের উপর চলছে ইংরেজি বিভাগ”। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভাগের এক শিক্ষককে “বড় আপা” বলে অভিহিত করে দাবি করা হয় তিনি বিভাগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে “হারুনের ভাতের হোটেল” বানিয়েছেন এবং পরীক্ষার সময় দায়িত্বে অবহেলা ও নকলের সুযোগ দেন। অপর একজন শিক্ষককে “মেজ ভাই” উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি নারীবাদীর মুখোশ পরে ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ করেন এবং রাতে গোপন মিটিং আয়োজন করেন। তৃতীয় শিক্ষককে “ছোট ভাই” বলে অভিহিত করে পোস্টে বলা হয়, তিনি ষড়যন্ত্র ও প্রভাবের শিকার হয়ে ফ্যাসিস্ট মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।

বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই পোস্টের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, শিক্ষকদের ভুল থাকলে গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু এভাবে সম্মানহানি করা অন্যায়। শিক্ষার্থীরা পোস্টদাতার পরিচয় উদ্ঘাটন করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাফুল পারভেজ বলেন, “আমাদের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক পোস্ট করা হয়েছে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে, এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। যে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী সরকার টিকে থাকতে পারেনি, সেখানে পাবিপ্রবিতে ষড়যন্ত্রকারীকে আমরা টিকে থাকতে দেব না। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা যদি সুস্পষ্ট ভূমিকা না নেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা জেগে উঠব। যারা এই কাজে ইন্ধন দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা চাই এবং কঠোর থেকে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আশা করছি, এই দুষ্কৃতিকারীরা অবশ্যই শাস্তি পাবেন।”

আরেক শিক্ষার্থী সুস্মিতা বিশ্বাস বলেন, “দুষ্কৃতিকারী তাদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের শিক্ষকদের নামে যা খুশি বলে যাচ্ছে, যা আমাদের ইংরেজি বিভাগের জন্য লজ্জাজনক। শিক্ষকরা আমাদের গুরুজন। আমরা কখনো চাই না, আমাদের শিক্ষকের সম্মানহানি হোক। শিক্ষকের সম্মানহানি হওয়া মানে পুরো জাতির সম্মানহানি হওয়া। এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

এ সময় শিক্ষার্থীরা পোস্টদাতার পরিচয় প্রকাশ ও বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রক্টর ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকের নিকট আবেদন জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, “আমরা নিজেরাও শিক্ষক। তোমরা যে এরকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছ, আমরা তোমাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা পদক্ষেপ নেব।”