গাজীপুরের শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। একটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার বরমী বাজার কেন্দুয়া ‘নিউ নাগরিক হাসপাতাল এন্ড জয়গনস্টিক সেন্টার’ এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগ ভুল চিকিৎসার কারণে অপারেশনে জন্ম নেওয়ার ৯ ঘণ্টার মধ্যে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। স্বজনরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বরমী বাজার কেন্দুয়া নিউ নাগরিক হাসপাতালে মুক্তা আক্তারকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে মুক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর নবজাতকের মা ও নবজাতক সুস্থ ছিলেন। রাত নয়টার পর থেকে বাচ্চার শরীরের কন্ডিশন খারাপ হতে থাকে। পরে তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন, ‘জন্মের পর বাচ্চাটি সুস্থ ছিল। পরে নবজাতকের ঠান্ডা লাগে। এরপর ঠান্ডা জনিত ইনজেকশন পুশ করা হয়। কিন্তু এতে অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না তাই রাত ১১টার দিকে আমাদের গাড়িতে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠাই।’
আবাসিক মেডিকেল অফিসার সাইফুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘বাচ্চাটি যখন হয়েছে তার আগে থেকেই বলা ছিল বাচ্চার মায়ের পেটের মধ্যে পানি আছে । প্রথম তিন ঘন্টা বাচ্চাটি ভালো ছিল। তারপরে ঠান্ডা দেখা দিলে আমরা তাকে অক্সিজেন দিয়ে দেই। অক্সিজেন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরে বাচ্চার মুখ থেকে ফেনা বের হয়। পরে ঠান্ডার জন্য একটি ইঞ্জেকশন দিই। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।’
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানি না। তবে শুনেছি এখানে একটি নবজাতকের জন্ম হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়।’ শ্রীপুরের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, ‘আমি জরুরি মিটিং এ আছি। এই মুহূর্তে বিষয়টি জানা নাই।’





















