গাজীপুরের শ্রীপুরে গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদে চাকরি করার অভিযোগে শিক্ষক আছিয়া খাতুন (৪০) এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি গাজীপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ৮ মাস ধরে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদে ওই মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (মৌলবী) হিসাবে চাকরি করে আসছিলেন। সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) দেয়া নির্দেশে গত ৬ ফেব্রুয়ারী মাদ্রাসার সুপার আবু তাহের পালোয়ান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে গাজীপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, তৃতীয় গণ বিজ্ঞপ্তির সুপারিশ প্রাপ্ত হইয়া একটি জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিয়ে আছিয়া খাতুন (৪০) সহকারী শিক্ষক (মৌলবী)হিসাবে ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে ১লা ফেব্রুয়ারী নিয়োগ নিয়ে গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় চাকুরি শুরু করেন। তিনি দীর্ঘ নয় মাস সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। তার নামের বানান ও শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ পত্র এবং এনটিআরসিএ এর শিক্ষক নিবন্ধন সনদপত্রে নামের বানান গড়মিল থাকায় মূল সনদ ও জাবতীয় কাগজপত্র তলব করিলে যথাসময়ে দাখিল না করায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তার বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ ২০২৩ সালের ১লা জুলাই তারিখ হতে স্থগিত করা হয়। পরে বিষয়টি মাদ্রাসা সুপারের নজরে আসে তাই তিনি শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি যাচাইয়ের জন্য এনটিআরসিএতে পাঠান। এরপর এনটিআরসিএ সনদ এবং নিয়োগ সুপারিশ পত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় ইনডেক্স নং-M00-33037 এমপিও সীট থেকে বাতিল করার জন্য সুপারিশ করা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে মাদ্রাসা সুপারের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন ওই মহিলা শিক্ষক।
এরপর মাদ্রাসার সুপার ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ এমপিও বন্ধের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন।যার ডকেট নং -3058। তার সনদ যাচায়ের পর এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ আছিয়া খাতুন সহকারী শিক্ষক (মৌলবী) নিবন্ধন সনদটি সঠিক নয় এবং জাল ও ভুয়া বলে প্রতিবেদন দেয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরপূর্বক অফিসকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি এ পর্যন্ত অবৈধভাবে চাকরি করে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা প্রতারণামূলক ভাবে আত্মসাৎ করেছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভুয়া জাল সনদ ও জাল সুপারিশে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি পিবিআই তদন্ত করছে। মাদ্রাসা সুপার ও সভাপতি টাকা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবু তাহের পালোয়ান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি গাজীপুর জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেছি।’ টেপিরবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং অভিযুক্ত শিক্ষক আছিয়া খাতুনের স্বামী টিএম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসার সুপার ও এক সহকারী শিক্ষক আমাকে বলছে পত্রিকায় একটা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া আছে। ১০ লাখ টাকা দিলে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। পরে আমি দুই ধাপে ১০লাখ টাকা পরিশোধ করি। নিয়োগ নিয়ে আট মাস চাকরি করে সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করেছে। এখন সুপার আবার মামলা দায়ের করেছে।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আছিয়া খাতুনের সঙ্গে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায় নি। গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষক নিবন্ধন সনদপত্র ও সুপারিশ জাল করা যায় এটা আগে জানতাম না। অভিযুক্ত আছিয়া খাতুন টেপিরবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী। একজন শিক্ষককের স্ত্রী হয়ে ভুয়া নিবন্ধন সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছে, এটা খুব দু:খজনক। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে অবগত নই। শিক্ষা অফিসার বিস্তারিত বলতে পারবেন।’
শিরোনাম
জাল সনদে চাকুরিরত সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
-
শ্রীপুর প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০১:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- ।
- 353
জনপ্রিয় সংবাদ





















